শিরোনাম :
শিবগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির অভিযোগে শিপন গ্রেফতার শাজাহানপুরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ : গ্রেফতার ২ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী রমজান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস: শাজাহানপুর ইউএনও’র ঈদের শুভেচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম পারমাণবিক হুমকি পাকিস্তানও : তুলসি ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা বার্তা ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণে ৪ ঘণ্টার পথ ১৬ ঘণ্টা আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি ঈদ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এহতেশামুল হাসানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান গাবতলীতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে ইফতার

খালেদা জিয়াকে কোনো অবস্থাতেই সুস্থ বলার সুযোগ নেই: ডা. জাহিদ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২

কোনো অবস্থাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। রবিবার (২৮ আগস্ট) রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তার সুচিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বিশেষ উন্নত সেন্টার করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। রবিবার উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। উনি সুস্থ আছেন- এটা কোনো অবস্থাতে বলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এবার নিয়ে ৬ বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। বেশ কিছু পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বোর্ডের সদস্যরা উনাকে হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। মেডিকেল বোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি বারবার বলা হলেও দুঃখজনকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, উনার শারীরিক অবস্থা যদি স্থিতিশীল থাকতো তাহলে তো তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতো না। ছয় দিন আগেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। আজ (রবিবার) আবারো এসেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে কতদিন থাকতে হবে এবং তার পরীক্ষার রিপোর্টগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জাহিদ বলেন, চিকিৎসাশাস্ত্রে আগাম কোনো কিছু বলার সুযোগ নেই। তাছাড়া কোনো রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চিকিৎসকদের বলাটা উচিত নয়, দায়িত্বও নয়। রিপোর্টে কী এসেছে তা জানার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনাদের বোঝা উচিত এই রিপোর্টে যা কিছুই আসুক না কেন উনাকে হাসপাতালে আনতে হয়েছে এবং ভর্তি হতে হয়েছে, এটাই বাস্তবতা। উনার রিপোর্টগুলো যদি ভাল ও সুন্দর হতো তাহলে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা থাকত না।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে ব্লক, আর্থ্রাটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত বছর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা। এরপর ১১ জুন এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার হৃৎপিণ্ডের ব্লক অপসারণ করে একটি ‘স্টেন্ট’ বসানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। পরে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকে তিনি গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচবার ছয় মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ দিন হাসপাতালে ছিলেন। এরপর একই বছরে শারীরিক অসুস্থা নিয়ে ৮১ দিন হাসপাতালে ছিলেন। চলতি বছরের ২৪ জুন ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023