চবি ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর রবিবার (৩১ জুলাই) রাত থেকে বিক্ষোভ করছেন পদবঞ্চিতরা। কমিটি টাকার বিনিময়ে গঠিত হয়েছে—অভিযোগ তুলে সোমবার সকাল থেকে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছেন শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। এতে ক্লাস-পরীক্ষা ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে শাটল ট্রেনও। ট্রেনের দুই লোকোমাস্টার ও এক গার্ডকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

কমিটি ঘোষণার পর মধ্যরাত থেকেই তা বাতিলের দাবিতে অবরোধের ডাক দিয়ে আন্দোলনে নামে শাখা ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। শুধু পদবঞ্চিতরা নন, আন্দোলনে রয়েছেন পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরাও। সোমবার (১ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মূল ফটকে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

ষোলশহর স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে ক্যাম্পাসগামী ট্রেন ঝাউতলা স্টেশনে পৌঁছালে দুই লোকোমাস্টার ও এক গার্ডকে অপহরণ করা হয়। কে বা কারা তাদের অপহরণ করেছে কিছু জানা যায়নি। রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় আমরা তাদের সন্ধান চালাচ্ছি। এখনও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

শাখা ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, রাতে ৩৭৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর মধ্যরাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। তখনই বিভিন্ন হলে পদপ্রাপ্তদের মারধর ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে রেখে অবরোধ শুরু হয়।

জানা গেছে, রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল, শাহ আমানত হল ও এ এফ রহমান হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেন পদবঞ্চিতরা। এ সময় কমিটিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদকের পদপ্রাপ্ত সিরাজুল কবির সাহিলকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সহ-সভাপতির পদপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবু বকর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের রাজনীতি সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম ধারণা নেই, তাদেরকেও কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এই কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি দিতে হবে। তা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস অবরোধ থাকবে।’

তবে এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুকে একাধিকবার কল দিয়েও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭৬ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে ৬৯ জন সহ-সভাপতি, ১২ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে ১৪ জুলাই রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023