বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সংস্করণের নেতৃত্বের জোয়াল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাঁধে। অনেক দিন ধরেই তার অধিনায়কত্বের পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে গেছে। নেতৃত্বের ব্যর্থতা তো আছেই, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাট হাতে রানখরা। এই দুইয়ে মিলে ভীষণ চাপে আছেন তিনি; যা তার অধিনায়কত্বের চেয়ারকে উত্তপ্ত উনুন বানিয়ে ফেলেছে!
আগামী অক্টোবরে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি ওভারের ক্রিকেট মহাযজ্ঞের আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দলের বাজে পারফরম্যান্স। অধিনায়কের বাজে ফর্মও ভাবাচ্ছে। গতকাল বিসিবির বোর্ডসভা শেষে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সংবাদ সম্মেলনেও মাহমুদউল্লাহর প্রসঙ্গ উঠেছে। তিনি অবশ্য নিরাশ হচ্ছেন না।
বোর্ডপ্রধানের বিশ্বাস রান পেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। পাপন বললেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে এত কথা হচ্ছে, ওর নামটা আসছে, কারণ সে নিজে রান পাচ্ছে না। সে দেশে এলে কথা বলব। আমি মনে করি, রান পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ নাজমুল জানান, ঘটা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তারা। টি-টোয়েন্টি সংস্করণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভাবনা তাদের। শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বে মাহমুদউল্লাহ থাকছেন কিনা এ নিয়ে কথা হবে তার সঙ্গে বৈঠকের পর। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে পাপন বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে হুট করে কিছু পরিবর্তন করে যে খুব একটা পরিবর্তন হবে, সেটা মনে হয় না। এখানেও দীর্ঘ মেয়াদে ভাবতে হবে। অধিনায়কত্ব বিষয়ে আজকে (রবিবার) বলা কঠিন। সিদ্ধান্ত নিতে এক মাস চলে যাবে। অধিনায়ক আসবে, তাদের সঙ্গে বসতে হবে।’
টি-টোয়েন্টির চেয়েও টেস্টে বাজে অবস্থা বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্টের দুটিতেই দল হেরেছে শোচনীয়ভাবে। কীভাবে লাল বলের ক্রিকেটে উন্নতি করা সম্ভব সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না বিসিবি সভাপতি। বরং বাস্তবতাকে ঢাল হিসেবে দেখালেন পাপন। তার ভাষায়, ‘টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে আমরা ভালো করছি না। টেস্টে আমরা এর মধ্যেই কিছু পরিকল্পনা করেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটে কী করলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট এখনো প্রায় প্রস্তর যুগে পড়ে আছে। তারকা ক্রিকেটাররা অংশ না নিলে প্রতিযোগিতা জমজমাট করা খুব কঠিন। আশার কথা হচ্ছে, উইকেটে কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে। পাপন যথার্থই বললেন, ‘এখন যে উইকেটে খেলা হয়, সেগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো। প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে হলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের খেলাতে হবে। যদি তাদের খেলাতেই না পারি, তা হলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করব কী করে। এটা কঠিন। এ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি; কমিটি করেছি। দেখা যাক কী হয়।’