জাতীয় পার্টির আয়োজনে শনিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠেয় ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে কেউ অংশগ্রহণ করছেন না। দলটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এ আভাস পাওয়া গেছে। হোটেল রেডিসনে জাপার ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। যদিও জাপার পক্ষ থেকে রাজনীতিকদের সম্মিলন নিশ্চিত করতে নানামুখী চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির ইফতার আয়োজনে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদেরকেও আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছে দলটি। এর বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাপা। তবে ইফতারে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ অংশগ্রহণ করছে না বলে দলটির স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ঠিক নেই, এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। আর শরীরটা বেশি ভালো নেই।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে কোনও আমন্ত্রণপত্র আসেনি। কোনও দাওয়াতপত্র দেখিনি।’
জাতীয় পার্টির দফতর বিভাগ থেকে স্থায়ী বিএনপির কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তিনি সিরাজগঞ্জে থাকায় ইফতারে অংশগ্রহণের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই তার ঘনিষ্ঠ একজনের দাবি।
বিএনপির দায়িত্বশীল একনেতা জানান, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের ইফতার রয়েছে শনিবার। লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির সমমনা কয়েকটি দলের নেতারা জানান, জাতীয় পার্টির ইফতারে বিএনপি যাবে কী যাবে না, এর ওপর তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি সেখানে গেলে রাজনৈতিকভাবে ইঙ্গিতবহ বলে মনে করেন তারা।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে স্থায়ী কমিটির অন্তত দেড়ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাপার ইফতারে যাওয়ার কোনও বিষয় বৈঠকে কোনও সদস্য উত্থাপন করেননি। তার মতে, যদি কেউ আগ্রহী হতেন, তাহলে বৈঠকে বিষয়টি আনা হতো।
একটি প্রগতিশীল সংগঠনের প্রধান জানান, বিএনপি না গেলে আমরা যাবো না। দলও এ বিষয়ে কোনও প্রস্তুতি নেয়নি। একইধারার আরেকটি দলের সভাপতি বলেন, আমি যাবো না। জাপার ইফতারে যাবো কেন— এটাই তো বড় প্রশ্ন। আমাকে ফোন করেছে কয়েকবার, ইফতারের দাওয়াত। যেতেই পারতাম, কিন্তু ইন-প্রিন্সিপাল আমি যাবো না। এছাড়া আরেকটা দাওয়াত আছে।
আরেকটি দলের সদস্য সচিব বলেন, বিএনপি গেলে আমাদের সম্ভাবনা থাকবে, না গেলে থাকবে না।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ইফতারের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কারা ইফতারে অংশগ্রহণ করবেন, বা করবেন না, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল রাজধানীর হোটেল রেডিসনে কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করছে জাতীয় পার্টি।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল –জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব আমন্ত্রণ পেলেও তিনি জাতীয় পার্টির ইফতারে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন রবের ঘনিষ্ট একজন। গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড.রেজা কিবরিয়া জানিয়েছেন, তিনি জাপার ইফতারে অংশ নেবেন। সংগঠনের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের একটি প্রতিনিধি দল জাপার ইফতারে যাবে। পূর্ব নির্ধারিত একটি প্রোগ্রাম থাকায় আমি যাচ্ছি না ‘