ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশগুলো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুক্রবার জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউরোপে থাকা এই দুই রুশ নেতার সম্পত্তি জব্দ করা হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনে রুশ হামলার কারণে পুতিন ও তার শীর্ষ কূটনীতির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ২৭ সদস্য রাষ্ট্র নতুন কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে। এই সপ্তাহে এনিয়ে দ্বিতীয়বার ইইউ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলো। এসব নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অভিজাতদের আঘাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ৭০ শতাংশ কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইইউ’র বৈঠক শেষে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বায়েরবক জানান, আমরা এখনও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রেসিডেন্ট পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভকে অন্তর্ভুক্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে নিষ্পাপ মানুষের মৃত্যুর জন্য এবং পদদলিত করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে তারা দায়ী। ইউরোপীয় হিসেবে আমরা এটি মেনে নিতে পারি না।
একজন সিনিয়র ইইউ কূটনীতিক জানান, ইউরোপে রুশ নেতাদের খুব বেশি সম্পদ না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত।
ইইউ পররাষ্ট্র নীতি প্রধান জোসেপ বোরেল জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় থাকা তৃতীয় বিশ্বনেতা হলেন পুতিন। এর আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ।
বোরেল জানান, প্রয়োজন হলে আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপকে দ্রুত পদক্ষেপ এবং মস্কোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে কিয়েভে রুশ হামলা নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, আপনারা এখনও এই আগ্রাসন ঠেকাতে পারেন। আপনাদের দ্রুত সাড়া দিতে হবে।