শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

দেশে প্রথমবারের মতো শুক্রবারে চলছে গণটিকাদান

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

দেশে প্রথমবারের মতো আজ শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটির দিনেও সারাদেশে চলছে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি।

তাছাড়া, কাল শনিবার সারাদেশে একদিনে এক কোটি টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার অধিদফতর জানায়, ওইদিনের ভিড় কিছুটা কমাতে শুক্রবার টিকাদান কেন্দ্র খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, টিকা প্রত্যাশীদের ভিড়। সকাল আটটায় রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা প্রত্যাশীদের ভিড় দেখা গেছে। অপেক্ষমাণ মানুষের সারি হাসপাতালের প্রধান ফটক ছাড়িয়ে পুলিশ স্টাফ কলেজ পর্যন্ত। তাদের কেউ কেউ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোর ছয়টা থেকে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মোস্তফা জানান, আগে টিকা নিতে পারেননি। এ কারণে আজ এসেছেন। “শুনছি ২৬ তারিখের পর আর প্রথম ডোজ দেওয়া যাবে না। এজন্য আজ চলে এসেছি।”

মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকাদান শুরু সকাল ৯টা থেকে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে আসা একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী মাসুদুল হকও এসেছেন টিকা নিতে। মাসুদুল বলেন, নানা কারণে টিকা নেওয়া হয়নি। শুক্রবার ছুটি থাকায় টিকা নিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

“ছুটি পাই নাই বেশিরভাগ সময়। এছাড়া নিজের কিছুটা অবহেলাও ছিল। কিন্তু অফিস থেকে বলছে টিকা না নিলে হবেই না। এজন্য সকাল সাতটার সময় এখানে এসে বসে আছি।”

মহাখালী থেকে আসা মো. সিরাজুল ইসলাম মিন্টু টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে এতদিনেও মোবাইলে এসএমএস আসেনি। শুক্রবারও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এসেছেন টিকা নিতে। টিকাদানে নিয়োজিত একজন কর্মীকে কার্ডটি দেখালে তিনি পরীক্ষা করে দেখেন এসএমএস এসেছে। “রেজিস্ট্রেশন করছিলাম কিন্তু এসএমএস আসছিল না। পরে ভাবলাম কার্ড ছাড়াই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়ে যাই। কিন্তু এখন আর তা করতে হবে না।”

মহাখালীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেও সকাল থেকে মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

বাড্ডার নূরেরচালার গৃহিণী নাসরিন সুলতানা এসেছেন সকাল সাতটায়। তিনি বলেন, টিকার জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রামের বাড়িতে ছিল। সে কারণে নিবন্ধনও করতে পারেননি। “এখন নিবন্ধন ছাড়াই টিকা দিচ্ছে এজন্য আজ চলে আসলাম। ভিড় হতে পারে এজন্য সকাল সকাল চলে এসেছি।”

বাংলাদেশে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়। দুই মাস পর ৮ এপ্রিল শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম। আর গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এর মধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল এক দিনে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একদিনে ১ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওইদিন জানানো হয় ২৬ ফেব্রুয়ারির পর প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে না।ওই ঘোষণার পর সারাদেশের টিকাদান কেন্দ্রগুলোয় ভিড় বাড়তে থাকে। গত বুধবার সাভারে করোনাভাইরাসের টিকা কেন্দ্রে প্রথম ডোজ টিকা প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় হয় যা সামলাতে পুলিশকে লাঠি চার্জ করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৮ কোটি ছয় লাখ এবং বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৩৪ কোটি ৪২ লাখের বেশি মানুষ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023