বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি সমমান আলিম পরীক্ষা-২০২১ এ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শীর্ষে রয়েছে উপজেলার উলিপুর আমিরিয়া সমতুল্যা মহিলা ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসা। গতকাল রোববার প্রকাশিত এইচএসসি সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ উপজেলায় মোট মাদরাসার সংখ্যা ৪২টি। যার মধ্যে এইচএসসি সমমান আলিম স্তরে মাদরাসার সংখ্যা পাঁচটি। এবারের আলিম পরীক্ষায় শেরপুর শহিদিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসা থেকে অংশগ্রহণ করেন ১০৮ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছেন ১০৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৭ জন পাশ করার পাশাপাশি অকৃতকার্য হয়েছেন ১জন পরীক্ষার্থী। আর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ জন। সাধারণ বিভাগে ৯৮ জন পাশ করার পাশাপাশি অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ জন পরীক্ষার্থী। আর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৫ জন। পাশের হার ৯৭.২২ আর মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৬ জন। আলতাদিঘী ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা থেকে এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির একজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত এবং আরেকজন শিক্ষার্থী ফেল করায় পাশের হার ৯৫.৬৫ ভাগ। আর এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। ঘৌড়দৌড় এনপি আলিম মাদ্রাসা থেকে এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৪ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে ১২জন। ৬ জন শিক্ষার্থী ফেল করায় পাশের হার ৮৫.৭১ ভাগ। আর এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। জামুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৩১ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে ২৯ জন। ৪ জন শিক্ষার্থী ফেল করায় পাশের হার ৯৩.৫৫ ভাগ। আর এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে, উলিপুর আমিরিয়া সমতুল্যা মহিলা ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসা থেকে এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৫৬ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছেন ৫৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ১১ জন পরীক্ষা দিয়ে ১১ জনই পাশ করার পাশাপাশি জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ জন পরীক্ষার্থী। সাধারণ বিভাগে ৪৪ জন পাশ করার পাশাপাশি জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ জন। একজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত এবং আরেকজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় পাশের হার ৯৮.২১ ভাগ। সে হিসেবে আলিম পরীক্ষা-২০২১ এ পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার তালিকায় এ উপজেলায় শীর্ষে রয়েছে উলিপুর আমিরিয়া সমতুল্যা মহিলা ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসা। এ প্রসঙ্গে উলিপুর আমিরিয়া সমতুল্যা মহিলা ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও: আব্দুল হাই বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনানুযায়ী করোনাকালীন সময়েও আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লাশ নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলীর ডেডিকেটেড মনোভাব এ ফলাফল অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এমন ফলাফলে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।