কখনও যাত্রী বেশে দলের সবাই বাসে ওঠে, কখনও আবার পুরো বাসই ‘রিজার্ভ’হিসেবে ভাড়া নেয়। এরপর বাসের চালক ও সহযোগীকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাসের পেছনের সিটের ওপর ফেলে রাখে। চালকের আসনে বসে সেই বাস নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন সড়কে ডাকাতরা। সুযোগ বুঝে যাত্রী তুলেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কেড়ে নেয়া হয় সঙ্গে থাকা সবকিছু। বেধড়ক পেটানোও হয় তাদের। তারপর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে রাখা হয় বাসের সিটের ওপর। সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে এরকম ডাকাতি অভিযান। এরপর কোনও এক ফাঁকা জায়গায় বাসসহ সবাইকে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। সম্প্রতি আব্দুল্লাহপুর থেকে দুরপাল্লার একটি বাসে উঠলে ডাকাত দলের হাতে পড়েন শফিকুল ইসলাম নামের এক চিকিৎসক। এ ঘটনায় জড়িত বাস ডাকাতির ঘটনায় ৮ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ঢাকা মহানগরী ও আশপাশ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. নাইমুর রহমান ওরফে নাইম, মো. আবু জাফর ওরফে বিপ্লব, সজিব, জহুরুল, আলামিন, দিলিপ ওরফে সোহেল, মো. আলামিন ও শাহনেওয়াজ ভূইয়া আজাদ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৪টি চাপাতি, লোহার বাটযুক্ত ৪টি ছোরা, ৫টি লোহার টুকরা রড, ৩টি গামছা, ১০টি মোবাইল ফোন, ২টি খেলনা পিস্তল ও নগদ ৯ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, গত ২০ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শফিকুল ইসলাম তার বন্ধুসহ উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল্লাহপুর পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে আর কে আর পরিবহন নামক বাসে উঠেন। তিনি তার বন্ধুসহ বাসে উঠা মাত্রই ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই হাত ও চোখ বেঁধে বাসের পেছনে নিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, মোবাইলের বিকাশে থাকা ৫ হাজার এবং ব্যাগে থাকা ২টি ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও পিন নিয়ে পরবর্তীতে আরও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা মহানগর ও আশপাশ এলাকায় বাসে যাত্রী তুলে ডাকাতি করতে থাকে।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি ডাকাতির মামলা হয়। এরপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকাসহ এর আশপাশ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি প্রধান বলেন, এই চক্রটি ঢাকা জেলার সাভার, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে একইভাবে ডাকাতি করে। ডাকাতদের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তাররা তাদের দোষ স্বীকার করেছে।
হাফিজ আক্তার বলেন, ডাকাত দলটি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আর কে আর পরিবহনের ভাড়ার কথা বলে সাভারের গেন্ডা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে ডাকাতরা প্রথমে বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে জিম্মি করে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেরাই বাসটি চালিয়ে মহানগর এলাকার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে ঘুরতে থাকে এবং টার্গেট করে যাত্রী উঠায়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, হাত-মুখ বেঁধে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে সকালের দিকে বিভিন্ন নির্জন স্থানে নামিয়ে দেয়।