একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে সরকারবিরোধী নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই জোটের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী বেশি। কারণ যে দাবি ও লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয় তা গত তিন বছরেও পূরণ হয়নি। বরং সব কিছু উল্টো হয়েছে। বর্তমানেও ফ্রন্টের কোন কার্যক্রম নেই। এটা থেকেও নেই। আর ফ্রন্টের সব কিছুই স্থবির হয়ে আছে।
তবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সরকারবিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য করতে চাচ্ছে। এজন্য তারা ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। আর ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজনের সঙ্গে আরেক জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি। মূলত এই কারণেই ঐক্যফ্রন্টের এখন কার্যক্রম নেই। দূরত্বের কারণে কোন বৈঠক ও অনুষ্ঠান হয় না। আর সর্বশেষ পাটকল শ্রমিকদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট।
জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তো এখন কোন কার্যক্রম নেই। ভবিষ্যতে কি হবে তা বলা যাবে না।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আশা নিরাশার প্রশ্ন নাই। কিন্তু এটা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) থেকেও নাই। আর ঐক্যফ্রন্টের মূল দল তো বিএনপি। তারা এখন বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলছে। দেখা যাক কি হয়।
গণফোরামের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রুত চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দল গোছাতে মন দিয়েছে। আর বিএনপি বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলছে। তবে আমরা (ঐক্যফ্রন্ট) হাল ছাড়ি নাই।
এদিকে সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন সমাবেশে সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলছে বিএনপি। এজন্য দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসে কিংবা ফেব্রুয়ারিতে এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও দেশের পরিস্থিতির উপর এর সময়সীমা বাড়তেও পারে বলে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
গত ৩ জানুয়ারি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি। এই মতবিনিময় মূলত বৃহত্তর ঐক্যের করার একটি প্রক্রিয়া বলেও দলটির একটি সূত্রে জানা গেছে।
বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি বারবার বলেছে- জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের মধ্য দিয়ে এবং একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, এই ফ্যাসিবাদি স্বৈরাচার সরকারকে পরাজিত করতে হবে। জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপেই আগে বিএনপির বসা উচিত ছিলো। কিন্তু বিএনপি সব সময়ই দেরি করে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেয়া হয়। ওই সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়।