বাসে হাফ ভাড়াসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। ঢাকায় রাস্তায় এই আন্দোলন কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের লাইসেন্সও রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছেন। এ সময় পুলিশের গাড়ি, মোটরসাইকেলও বাদ যাচ্ছে না। পুলিশের গাড়ির চালকদের লাইসেন্স না পেলে ওই গাড়ি আটকানোর পাশাপাশি গাড়িতে বিভিন্ন স্লোগান লিখতেও দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। এসব ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন। এমন প্রেক্ষাপটে ভাবমূর্তি রক্ষায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সব বিভাগে কর্মরত ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করাসহ সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের একটি কপি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানিয়েছে, ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করাসহ সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের একটি কপি রাখার বিষয়ে গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিবহন বিভাগ থেকে একটি চিঠি সব বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে- চলমান ছাত্র আন্দোলনে ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকার কারণে জনসম্মুখে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে অক্ষুণ্ণ না হয়, সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকার পরিবহন বিভাগ থেকে আপনার বিভাগে কর্মরত ড্রাইভার পুলিশ সদস্যদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের হালনাগাদ কপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স দ্রুত সময়ের মধ্যে হালনাগাদ করতে নির্দেশ প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে নিজ নিজ বিভাগে কর্মরত ড্রাইভার পুলিশ সদস্যদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের হালনাগাদ কপির ফটোকপি এবং যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের ড্রাইভার পুলিশ সদস্যদের তালিকা পরিবহন বিভাগে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে সরকারি মোটরসাইকেল ইস্যু রয়েছে, তাদেরও ড্রাইভিং লাইসেন্সের হালনাগাদ কপি সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান। পুলিশ আইন প্রয়োগ করে থাকে। গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ সদস্যদের অবশ্যই হালনাগাদ ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখা উচিত। তা না থাকলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হতে পারে যে কোনো সময়। এটি পুলিশ বাহিনীর কাম্য নয়।