শিরোনাম :
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা বগুড়ায় আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে ১০ দলীয় জোটের সভা শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ৭ জন শিবগঞ্জে অবৈধ মাটি মহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সাভারের ট্যানারি

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

এবার সাভারের চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ দূষণের দায়ে এই শিল্পনগরী বন্ধ করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে। সংসদীয় কমিটি মনে করছে, এই শিল্প নগরী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আবারও আলোচনা হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

সংসদীয় কমিটি বলছে, পরিপূর্ণ ব্যবস্থা নিয়ে এই শিল্পনগরী চালাতে হবে। যতদিন তা না হয়, এটা বন্ধ থাকবে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সংসদীয় কমিটির সঙ্গে একমত পোষণ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সাভারে ট্যানারি যেটা আছে, আমরা তো তাদের চিঠি দিয়েছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব এসেছিলেন। উনার বক্তব্য শুনলাম। আমরা টাস্কফোর্সকে স্বাগত জানাই। টাস্কফোর্স তাদের কাজ করবে। তবে তারা নতুনভাবে আবার আবেদন করবে তাদের ছাড়পত্রের জন্য।

তিনি বলেন, আমাদের যে চাহিদাগুলো আছে সেগুলো তারা পূরণ করবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো, কীভাবে করলে এটা কমপ্লায়েন্ট হতে পারে। সেটা করার পর, তারা নিয়ম অনুযায়ী যদি ছাড়পত্র পায় তারা শিল্পনগরী চালু করতে পারবে। তার আগে এখনই এটা বন্ধ করতে হবে। এটা চলতে পারবে না।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হওয়ায় গত ২৩ অগাস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সাভারের চামড়া শিল্প নগরী আপাতত বন্ধ রাখার সুপারিশ করে।

কমিটির সুপারিশের পর পরিবেশ অধিদফতর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কাছে চিঠি দেয়। চামড়া শিল্প নগরী কেন বন্ধ করা হবে না, তা বিসিকের কাছে জানতে চায় সংসদীয় কমিটি।

এক প্রশ্নের জবাবে সাবের হোসেন বলেন, কোন ইনডিভিজুয়াল ইউনিট যদি ইটিপি করে, সেটার বিষয় আলাদা করে বিবেচনা করা হবে। আজকে ফাইনাল ডিসিশন হয়েছে, এটা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা মিনিস্ট্রিরও সিদ্ধান্ত। আমরা জানিয়ে দিয়েছি। এটা চিঠি ইস্যু হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৬টা ডাইং কারাখানা, তাদের ছাড়পত্র নেই। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এখানেও বন্ধ করে দেবো। আগে শোকজ করা হয়েছিল। জবাব এসেছে। আপাতত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। মিনিস্ট্রি এখন শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিককে চিঠি পাঠাবে।

সাবের হোসেন আরও বলেন, ২০১১ সাল থেকে এটা আছে। ১০ বছর ধরে তারা কোনও ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেনি। এটা হতে পারে না। আবেদন করবেন না, ছাড়পত্র নেই, আবার চালাবেন। এটা হতে পারে না। এখানে জিরো টলারেন্স।

সাবের হোসেন বলেন, আমরা আজকেও বলেছি, আপনি যদি বর্জ্য খোলা জায়গায় রেখে দেন এটা অক্সিডাইস, ক্যান্সারাস। আমার এলাকায় বালু নদীর পানি পচে গেছে। কয়লার মত কালো। চর্ম রোগ হয়।

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে দৈনিক ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য উৎপাদন হয়। যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রয়েছে ২৫ হাজার ঘনমিটার। অর্থাৎ দৈনিক ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিবেশে মিশছে। গত তিন বছরে এক কোটি ৬৪ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে গেছে। এর বাইরে ক্রোমিয়াম শোধনের ব্যবস্থাও নেই সেখানে। এসব যুক্তিতে অগাস্ট মাসে সাভারের ট্যানারি বন্ধ করার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

গত সেপ্টেম্বর মাসে চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে সুপারিশ তৈরি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স এক বৈঠক করে বলেছে, তারা এই শিল্পের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ চায়। চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ না করে পরিবেশ সম্মত ও দূষণ মুক্ত করার পক্ষে টাস্কফোর্স। ট্যানারিগুলো হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হলেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) এবং অন্যান্য সব কাজ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় কয়েকটি ট্যানারিকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হলেও এখন পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নে সময় নেওয়া হচ্ছে।

আর পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় রফতানিকারক হিসেবে এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ইআরসি, আমদানিকারক হিসেবে ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আইআরসি এবং শুল্কমুক্তভাবে পণ্য আমদানির বন্ড সুবিধার ছাড়পত্র পেতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে ট্যানারি মালিকদের ভাষ্য।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023