জন্ম থেকেই ডান পায়ের পাতার উপরের অংশ কিছুটা বড় নুসরাত জাহানের। এ নিয়ে বাবা নূর মোহাম্মদ ও জেসমিন আক্তারের ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু ১৩ বছরের নুসরাতের আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। তাই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে সে ঠিকই দুর্বার গতিতে ছুটে চলছে। আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো সে হাটাচলা করতে পারে না। স্টেচারে ওপর ভর দিয়ে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হয় নুসরাতের। ছোটবেলা থেকেই নুসরাত জাহানের স্বপ্ন সে একজন চিকিৎসক হবে। বর্তমানে বগুড়ার এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে নুসরাত। বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের পোড়াপাড়ার দিন মজুর নূর মোহাম্মদ ও জেসমিন আক্তারের সংসারে আলো ছড়াচ্ছে নুসরাত। নুসরাত শহরের সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণে গোল্ডেন এ প্লাস (জিপিএ-৫) অর্জন করে। পড়াশোনা আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে দশগুণ কষ্ট আর কথা সহ্য করে প্রতিনিয়ত পথ চলতে হয় নুসরাতের। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানায়, ‘স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় আমার চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্ত ছোটবেলা থেকে স্টেচারে ভর দিয়ে চলতে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমার পাড়ার এবং স্কুলের বন্ধুরা যখন খেলাধূলা করে তখন আমি ওদের দিকে চেয়ে থাকি আর ভাবি কেন আমি ওদের মতো খেলতে পারি না। তখন আমার খুব মন খারাপ করে। বাবা-মা আর স্কুলের বন্ধুরা আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়। বড় হয়ে আমি একজন চিকিৎসক হতে চাই। আমি চিকিৎসক হলে আমার মতো প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা বিনা পয়সায় করব। কারণ আমি জানি একজন প্রতিবন্ধীর জিবন-যাপন করা কতটা কঠিন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী নুসরাত জহানের মা জেসমিন আক্তার জানান, ‘বাবা-মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান। এক ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে আমাদের পরিবার। স্বাভাবিক মানুষের মতো আমার মেয়ে হাঁটাচলা করতে পারে না। স্টেচারে ভর দিয়ে চলাচল করে। সমাজের কটুকথা শোনার পরে একজন মা হিসেবে আমাকে সবকিছু আগলিয়ে রাখতে হয়। আল্লাহ চাইলে, আমাদের স্বপ্ন আমাদের নুসরাত একজন সৎ চিকিৎসক হবে। এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নুসরাত স্কুলের একজন মেধামী ছাত্রী। ক্লাসে পড়াশোনা অল্পতেই বুঝতে পারে। আমি শিক্ষক হিসেবে নুসরাতের সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করছি। বিশেষ করে নুসরাতের চলাচল করতে সমস্যা হয়।’