শিরোনাম :
শিবগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির অভিযোগে শিপন গ্রেফতার শাজাহানপুরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ : গ্রেফতার ২ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী রমজান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস: শাজাহানপুর ইউএনও’র ঈদের শুভেচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম পারমাণবিক হুমকি পাকিস্তানও : তুলসি ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা বার্তা ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণে ৪ ঘণ্টার পথ ১৬ ঘণ্টা আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি ঈদ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এহতেশামুল হাসানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান গাবতলীতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে ইফতার

সাতের বদলা একুশে!

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১

২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই আসরেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৪ রানে হেরেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। গত ১৪ বছরে কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয়নি দুই দলের। তাই একুশে এসে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ সাতের বদলা নেওয়ার। এছাড়া ২০০৭ বিশ্বকাপের পর পাঁচটি আসর খেলেছে বাংলাদেশ, যেখানে ‘মূল পর্বে’ জয় নেই একটিও। এবার সেই জয়ের খোঁজেও বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।

কঠোর সংগ্রাম করে সুপার টুয়েলভে উঠতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ দুটি ম্যাচে সহযোগী দুই দেশ ওমান ও পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে এবার ‘আসল’ বিশ্বকাপ রাঙানোর অপেক্ষায় মাহমুদউল্লাহরা। আজ (রবিবার) ঐতিহাসিক শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় নামছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টেলিভিশন ও টি স্পোর্টস।

গতকাল (শনিবার) বিকালে শারজায় একবেলা অনুশীলন করে লঙ্কানদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও আগের দুই ম্যাচ জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান অনুশীলন করেননি। এছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ওপেনার লিটন দাস বিশ্রামে ছিলেন। ভ্রমণ ক্লান্তির কারণেই তাদের অনুশীলন না করা। সাইফউদ্দিন আর লিটনের এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও আইপিএলের সৌজন্যে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। সেই অভিজ্ঞতা হয়তো লঙ্কানদের বিপক্ষে ভালোভাবে কাজে লাগাবেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

শারজার পিচে স্পিনেই কাবু করতে হবে, দুই পক্ষেরই সেটা ভালো করে জানা। ফলে একাদশে স্পিনারদের আধিক্যই বেশি থাকার সম্ভাবনা। বাংলাদেশ দলে অবশ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণই বলা চলে। স্পিন আক্রমণে সাকিব ও শেখ মেহেদী হাসানের ওপর ভরসা রেখে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। বাড়তি স্পিনার হিসেবে আফিফ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ তো আছেনই। শেষ মুহূর্তে বাড়তি চিন্তা থেকে নাসুম আহমেদকে একাদশে দেখাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাসকিন আহমেদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশি। তেমনটি হলে লিটন দাসকে বসিয়ে খেলানো হতে পারে সৌম্য সরকারকে। এখানে সৌম্যর বোলিং দলে ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে পিঠের চোটে লঙ্কান স্পিনার মাহিশ থিকশানা খেলতে না পারলে কপাল খুলতে পারে আকিলা ধনাঞ্জয়ার। থিকশানা গত কয়েক ম্যাচ ধরেই ছন্দময় বোলিং করেছেন। শ্রীলঙ্কার শক্তির মূল জায়গাটি হলো তাদের বোলিং। দুই পেসার দুষ্মন্থ চামিরা-লাহিরু কুমারার সঙ্গে থিকশানা ও ভানিন্দু হাসারাঙ্গার ঘূর্ণিতে প্রতি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলেছে।

ম্যাচটি শারজায় হওয়ায় বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক অংশেই বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার উইকেটের আচরণ মিরপুরের মতোই দেখা গেছে। উইকেটে বল কিছুটা ধীরে আসে, ফলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিছুটা অসুবিধা হলেও বোলারদের জন্য দারুণ সহায়ক উইকেট এটি। পাশাপাশি ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বলেও বাড়তি সুবিধা থাকছে। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তেমনটাই প্রত্যাশা করছেন, ‘এই ধরনের কন্ডিশন আমাদের সঙ্গে যায়। শারজার পিচ ঢাকার মতোই। আশা করি, আগামীকালের (রবিবার) ম্যাচে এটি আমাদের সহায়তা করবে।’

২০০৭ সালের পর বিশ্বমঞ্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেখা হয়নি বাংলাদেশের। সেবারের আসরে বাংলাদেশ দলকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছিল লঙ্কানরা। জিতেছিল ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৪৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৮৩ রানে অলআউট হয়। ওই বিশ্বকাপের তিন ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ-সাকিব-মুশফিক আছেন বর্তমান দলেও। ২০২১ সালে এসে তাদের সামনে সুযোগ ২০০৭ সালের বদলা নেওয়ার।

কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ১১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। যার চারটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। অবশ্য লঙ্কানদের বিপক্ষে অনেকদিন প্রতিযোগিতামূলক টি-টোয়েন্টিও খেলা হয়নি। সেই ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আর মুখোমুখি হয়নি। তবে দিনকয়েক আগে আইসিসির অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল তাদের। ওই ম্যাচে ৪ উইকেটে হারে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

যদিও প্রস্তুতি ম্যাচ আমলে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। নিজেদের শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন ডমিঙ্গো, ‘আমরা গত কয়েক মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি। ওয়ানডে ও টেস্টে তাদের বিপক্ষে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। দক্ষতাসম্পন্ন বোলার ও কিছু বিপজ্জনক ব্যাটারদের নিয়ে আমাদের দল ভারসাম্যপূর্ণ। আমাদের আছে সাকিবের মতো বিশ্বমানের অলরাউন্ডার। এই ধরনের কন্ডিশন আমাদের সঙ্গে মানানসই। শারজার উইকেটগুলো ঢাকার মতোই। আশা করি, সেটা আমাদের সহায়তা করবে।’

বাংলাদেশের কোচ আত্মবিশ্বাসের কথা বললেও শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা সরাসরি নিজেদের এগিয়ে রেখেছেন। সেটা করারই কথা। ‘এ’ গ্রুপে দাপট দেখিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দ্বীপ দেশটি। গ্রুপে থাকা কোনও দলই ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নদের বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণের কাছে পাত্তা পায়নি। নামিবিয়া ৯৪, আয়ারল্যান্ড ১০১ ও নেদারল্যান্ডস ৪৪ রানে অলআউট হয় তাদের বিপক্ষে।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান অধিনায়ক বলেছেন, ‘কোয়ালিফায়ারে ওই ম্যাচগুলো (ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে) জিতে তারা (বাংলাদেশ) ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। এটা তাদের জন্য ভালো ব্যাপার। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের দলটা তাদের তুলনায় ভালো। আমাদের (জয়ের) সম্ভাবনা কিছুটা বেশি।’

তবে মাঠে খেলেই জিততে হবে। আর সেখানে যে বাংলাদেশ ছেড়ে কথা বলবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023