শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

৩১০ কোটি টাকা পাচারের বেশির ভাগ অর্থ সিঙ্গাপুরে

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১

ক্যাসিনোকাণ্ডে ধৃত যুবলীগ নেতাসহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ৩১০ কোটি টাকা পাচারের একাধিক মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। কয়েক বছর ধরে চলা এ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তবে চলমান তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদনে সিআইডি বলছে, পাচারকৃত টাকার বেশির ভাগই পাঠানো হয়েছে সিঙ্গাপুরে। এছাড়া মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও পাচারের অর্থ পাঠিয়েছেন অভিযুক্তরা।

পাচারকৃত এই শত শত কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সিআইডি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো হতে পাচারকৃত অর্থের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্ত এই সংস্থা। হাইকোর্টে দাখিল করা সিআইডির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রতিবেদনে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিং হওয়া ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, হ্যাকিং হওয়া অর্থের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ইউএস ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে যুবলীগের বেশ কয়েক জন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলার তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিআইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতাদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানের পাচার করা অর্থের পরিমাণ ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এই পুরো অর্থই তারা পাচার করেছেন সিঙ্গাপুরে। বহিষ্কৃত কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের নাজমুল আবেদীন, সোহেলা আবেদীন ও এ কে এম জাহিদ হোসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করেছেন ৪০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এছাড়া যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদা মাহমুদ ভূইয়া সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এছাড়া ফরিদপুরের রাজীব হোসেন রানা ও নেত্রকোনার জামাল ৮১ লাখ, কুমিল্লার শরিফুল ইসলাম ও আওলাদ হোসেন ৮৩ লাখ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন। শাহজাহান বাবলু সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করেছেন ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঢাকার মতিঝিল, পল্টন ও রমনা থানায় দায়েরকৃত মামলায় তদন্ত চলমান।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অর্থ পাচার বিষয়ে তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির তদন্তাধীন মামলার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। তিনি বলেন, আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এমএলএআরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহে পাচার হওয়া অর্থের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023