আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির নয়া সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীকরা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোট ত্যাগ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর যারা এখনো জোটে আছে, তাদের মনেও দানা বেধেছে অবিশ্বাস আর অনাস্থা। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোন কোন দল খুঁজছে বিকল্প উপায়। অন্যদিকে, প্রধান শরিক বিএনপি বলছে, জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আর এক মঞ্চে বসতে আগ্রহী নয় তারা। চার দল থেকে ২০ দল। ১লা অক্টোবর ২২ বছরের সেই মিত্রতা ছাড়ে খেলাফত মজলিস। উৎকণ্ঠায় রয়েছে অন্য শরিকরাও।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘সেসময়কার পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান কেন বিভক্ত হয়েছে? কারণ, বড় ভাইয়ের ব্যবহার ভালো ছিলনা। বিএনপির ব্যবহার ভালো না থাকলে তাদের সামনে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। কেউ তাদের আজ্ঞাবহ দাস নয়। দেশের মঙ্গলের জন্য আগামীতে যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেটা নিতে আমি দ্বিধাবোধ করবো না। আমি কারও ওপর নির্ভরশীল নই।‘ গেল জুলাইয়ে ২০ দল ছেড়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। ক‘বছর আগে ইসলামী ঐক্যজোটের এক অংশ বিএনপি জোট ছেড়েছে। এভাবে একে একে ইসলামী দলগুলো জোট ছাড়ছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুর রকিব বলেন, ‘আমরা বেগম জিয়ার নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছিলাম। বিএনপির সাথে যে দলগুলো রয়েছে তাদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক তারেক রহমানের আছে কিনা তা আমার জানা নেই।‘
তবে, জোট নিয়ে এখনও হাল ছাড়েননি কেউ কেউ। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, ‘আমরা আর ও কিছুদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করব। ধৈর্যের বাঁধ যদি ভেঙে যায়, তখন জনগণের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই একটা ইশারা পাব। কি করলে ভালো হবে। তখন নিশ্চয়ই একটা সিদ্ধান্ত নিব।‘ তবে, জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক দলগুলোকে নিয়ে জোটবদ্ধ রাজনীতি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বিএনপিতে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, ‘এরা তো সুযোগ সন্ধানী। এরা চলে গেলে যাক। এই আবর্জনা চলে যাওয়াই ভালো।‘