রংপুরে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে মেহেদী হাসান ওরফে রাব্বী (২৫) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক যাবিদ হাসান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী নগরীর ধাপ শ্যামলী লেনের নুরুজ্জামানের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীতে বসবাসরত ওই ছাত্রীকে স্কুল যাতায়াতের সময় একই এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান ওরফে রাব্বী প্রায় উত্ত্যক্ত করত। রাবব্বী মেয়েটিকে বারবার প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছিল। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা মেহেদীর অভিভাবককে কয়েক দফা বিচার দিয়ে প্রতিকার পাননি। ২০১৮ সালের ৭ জুলাই সকাল ১১টায় গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার সময় চেকপোস্ট মোড়ে ওই ছাত্রী দাঁড় করিয়ে মেহেদীর মা মনোয়ারা বেগম এবং কেরানীহাটের আশরাফুল আলমের স্ত্রী মনি কথাবার্তা বলেন। এরই এক পর্যায়ে মেহেদী, লালমনিরহাট কিশাত নগরবন এলাকার আজগর আলীর ছেলে আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে নিয়ে এসে ওই ছাত্রীকে জোর করে তুলে ঢাকার দিকে চলে যান। ঘটনা জানতে পেরে মেয়েটির বাবা মেহেদীর পরিবারের কাছে ছুটে এলে তারা উল্টো তাকে হুমকি ধামকি দেয়। পরে মেয়েটির বাবা একই বছরের ১০ জুলাই মেহেদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ ১৬ জুলাই ঢাকার আশুলিয়া থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারসহ মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে। ১২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার আদালত মেহেদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও মূল আসামি মেহেদী এখনও পলাতক রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. খন্দকার রফিক হাসনাইন বলেন, ১২ জনের স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালতের বিচারক ধর্ষণের ঘটনায় মেহেদীকে যাবজ্জীবন ও অপহরণের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া অপহরণের জন্য আসামিকে ২০ হাজার টাকা এবং ধর্ষণের জন্য ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রফিক হাসনাইন আরও বলেন, মূল আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।