স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার গাবতলীতে চাতাল শ্রমিক ইব্রাহিম হোসেন (২১) এর ব্যবহৃত মটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহতের বন্ধু জাহিদ হাসান মামুন (১৯) এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।
ইব্রাহিম হোসেন কে হত্যার সাথে জড়িত গ্রেফতারকৃত জাহিদ হাসান মামুন শেরপুর উপজেলার ফুলতলা গ্রামের খন্দকারটোলা এলাকার হানিফ সোনার ছেলে।
প্রেস ব্রিফিংদেয় পুলিশ সুপার জানান, খুন হওয়া ইব্রাহিম হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ব্রাহ্মনবয়রা ইউনিয়নের চায়নাবাদ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে মামা শামসুল বারীর ধানের চাতালে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস আগে থেকে সে কাজ শুরু করে। কাজের সুবাদে এলাকায় ঘোরা ফেরার কারণে স্থানীয় যুবক ঘাতক জাহিদ হাসান মামুন সহ আরো কিছু বখাটে ছেলেদের সাথে তার বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইব্রাহিম তার মামার ব্যবহৃত নীল রংয়ের এ্যাপাচি আরটিআর মটরসাইকেল নিয়ে ব্যবসার কাজে বিভিন্ন এলাকায় চলা ফেরা করতো।
ঘটনার দিন গত সোমবার জাহিদ নতুন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে ইব্রাহিমকে শেরপুর থেকে বগুড়া শহরে ডেকে নেয়। এরপর শহরে ইব্রাহিমকে সাথে নিয়ে মদ কিনে আরো কয়েক বন্ধুসহ খাওয়ার কথা বলে কৌশলে সোমবার দিবাগত রাতে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পাঁচমাইল টু গোলাবাড়ী যাওয়ার পাকা রাস্তার দক্ষিণ পাশে নিশিন্দারা এলাকার পরিত্যক্ত ইটভাটার মধ্যে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইব্রাহিম, জাহিদ সহ অন্যান্যরা সেখানে মদ পান করে।
এরপরে রাত আনুমানিক ১টার পরে ইব্রাহিমের গলায় ধারালো বেøড দিয়ে গলা কাটে এবং মৃত ভেবে সেখানে ফেলে রেখে মটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে জাহিদরা চলে যায়। পরে ঘাতকেরা চলে গেলে জীবন বাঁচানোর জন্য সেখান থেকে দৌড়ে পাকা রাস্তার পাশে সোহাগ নামের এক মুদি দোকানীর সামনে গিয়ে পড়ে যায় ইব্রাহিম। তখন দোকানদার সোহাগ তার কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে তার বাবা ও গাবতলী থানা পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইব্রাহিমকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইব্রাহিম মারা যায়। এরপরে গাবতলী থানা কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে একটি বিশেষ সুত্র ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মূল অভিযুক্ত জাহিদকে মঙ্গলবার সকালে শহরের নাটাইপাড়া ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে ছিনতাই হওয়া মটরসাইকেলটি নাটাইপাড়া আপন গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের নাম ঠিকানা জানতে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত জাহিদকে আদালত সোপর্দ করে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।