শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

ধুনটে ২২ বছর পর নিখোঁজ মাকে পেয়ে পরিবারে আনন্দ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দীর্ঘ ২২ বছর পর নিখোঁজ মাকে খুঁজে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছে সন্তানেরা। ঢাকা থেকে সোমবার রাতে ফিরেছেন তারা। মধ্যরাত পর্যন্ত ধুনট উপজেলায় নিজ গ্রামে আমেনাকে একনজর দেখার জন্য শতশত মানুষ ভিড় করে। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূর রান্না করা খাসির মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছেন। সকালে আমেনাকে দেখতে কয়েক শত মানুষ ভিড় করে। গ্রামবাসী দির্ঘদিন পর আমেনাকে দেখতে পেয়ে চিনতে পারে।

১৯৯৯ সালে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় তিনি। এরপর থেকেই তার কোন খোঁজ মেলে না। তার সন্তানেরাও মাকে এতদিন মৃতই জানতেন। তাই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রেও মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সেই নিখোঁজ মা আমেনা বেগম সন্ধান পাওয়ার পর নেপাল থেকে দীর্ঘ ২২ বছর পর নিজ বাড়ীতে ফিরেছেন। তবে এখন তার বছর প্রায় ৮০ বছর। তার বাড়ি ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় সোমবার দুপুরের দিকে নেপাল থেকে ঢাকা পৌঁছান ধুনটে সেই নিখোঁজ আমেনা বেগম। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে তার স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতেই সন্তানদের সঙ্গে ধুনটের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন আমেনা।
এদিকে মঙ্গলবার নিখোঁজ আমেনার বাড়ি ফেরার সংবদ শুনে দূর দূরান্ত থেকে শত শত লোকজন তার বাড়িতে ভিড় করছেন। প্রায় দুই যুগ পর মায়ের মুখ দেখে আনন্দে আত্মহারা উঠেছে সন্তান ও স্বজনেরাও।
এদিকে বড় বোনের অপেক্ষোয় ছিলেন ধুনটের ছোট চাপড়া গ্রামের ছোট বোন আম্বিয়া। তিনি বলেন, আল্লাহ সরকারকে ভালো করুক। সরকারের কারনে এত বছর পর বোনকে ফিরে পেলাম।

আমেনার বড় ছেলে আমজাদের পুত্র আদিলুর রহমান আদিল জানান, সরকারিভাবে তার দাদীকে তাদের পরিবারে ফিরে দেওয়া হয়েছে। তাদের কোন টাকা খরচ হয়নি। সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন মানুষ মানুষের জন্য। তিনি আরো জানান, তার যখন ৮ বছর বয়স তখন তার দাদী নিখোঁজ হয়। দাদী তাকে না চিনলেও দাদীকে সে চিনতে পেরেছে। তার দাদীকে দেখার জন্য গ্রামের শতশত মানুষ অপেক্ষা করছেন। আত্মীয়স্বজনরা অপেক্ষা করছে।

আমিনা বেগমের ছেলে ফটিক জানান, ভেবেছিলাম মা মারা গেছে। এতদিন পর মাকে পেলাম। এরচেয়ে এত খুশী আর কি হতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার হাই কমিশনের মাধ্যমে সোমবার দুপুর ১ টায় ঢাকা বিমান বন্দরে নিয়ে আসেন আমার মাকে। ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে মাকে খুঁজে পেতাম না। ফেসবুকের সুবাদেই আজ খুঁজে পেলাম। শুক্রবারেও ভিডিও কলে মার সঙ্গে কথা হয়। সেখানে নেপালী অধিবাসীও ছিল। ভিডিও কলে আশ্রয়দাতা নেপালীদের ধন্যবাদও জানানো হয়।

আমেনার বড় ছেলে আমজাদ হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার শাশুড়ী মানসিক রোগী ছিলেন। পাগলের মত ঘুরে বেড়াতো। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছিল।

ছোট ছেলে ফরাইজুল জানায়, হঠাৎ করেই গত জুন মাসে খবর আসে ‘মা’ বেঁচে আছেন। নেপালের সানসুরি জেলার ইনারুয়া পৌরসভা এলাকায় তার সন্ধান মিলেছে। এরপর ভিডিও কলে মার সঙ্গে নেপাল থেকে ভিডিও কলে কথা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় মাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। মাকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে জান্নাতের সুখ পেয়েছি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023