স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু বলেছেন, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। তিনি বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবহমান থাকবে।
১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকান্ডের কালোরাত। এ দিনে মানবতার শক্র প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতি মুক্তি আন্দোলনের মহা নায়ক বিশ্বের লাঞ্চিত-বঞ্চিত-নিপিড়িত মানুষের মহান নেতা বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহপরিবারে হত্যা করা হয়।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা ও ২১ আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে বগুড়া জেলা যুব মহিলা লীগের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বরেন, অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু ঘাতকের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও খুনিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ‘তোরা কী চাস? আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি?’ বঙ্গবন্ধুকে দেখেও হাত কাঁপেনি খুনিদের। গুলি চালিয়েছে খুনে চাহনীতে।
স্বাধীন বাংলাদেশে কোনও বাঙালি তাঁর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে না বলে দৃঢ়বিশ্বাস করতেন বঙ্গবন্ধু। সেজন্য তিনি গণভবনের পরিবর্তে থাকতেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে। যে বাড়িটি বাঙালির স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে অসম্ভব প্রিয় ছিল বঙ্গবন্ধুর। এখানে থেকেই তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে সর্বশক্তি নিয়ে ব্রতী ছিলেন।
মজনু বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি মর্যাদাবান ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ
এসময় তিনি স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী চক্রের যে কোনও অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহব্বান জানান।
সভায় প্রধান বক্ত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। জেলা যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি হাসিনা হাফিজ হিরার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডালিয়া নাসরিন রিক্তার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম আছাদুর রহমান দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন নবাব, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খাদিজা খাতুন শেফালী।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিগার সুলতানা ডরথি, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলমগীর বাদশা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেফাজত আরা মিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্নি সবেরাত, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেকুজ্জামান রাজন, শহর আওয়ামী লীগ নেতা হিরা প্রামানিক, রাশেদুল আলম শাওন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল আলম শাওন, প্রচার সম্পাদক মুকুল ইসলাম, জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফরোজা আক্তার রিমা, সুচনা, ফেরদাউস, আজিজার সুলতানা ববি, সাংগঠনিক সম্পাদক আইভি আক্তার নুপুর, আঞ্জুমান, নাহিয়া আক্তার নন্দিতা, মনিরা আক্তার, কুমকুম, ইসমত আরা, রিনি আক্তার, সুমি বেগম, রুপালি, রত্না বেগম, সুমা, শান্তনা, শারমিন আক্তার ইভা প্রমুখ।
শেষে শোকাবহ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ যাঁদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তাঁদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।