শিরোনাম :
পলাশবাড়িতে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০তম বর্ষ পালিত শাজাহানপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঝিরা ইউনিয়ন জামায়াতের লিফলেট বিতরণ শিবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে মহাস্থানে নিসচা’র সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ছোনকা বাজার আন্ডারপাসের দুই পাশে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, শোভাবর্ধন গাছ রোপণ শাজাহানপুরে মশা নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন শিবগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায়দের মাঝে ঢেউটিন বিতরণে গাবতলীতে ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে কৃষক কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় জাতীয় কবি নজরুল এর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

ধুনটে মাহফিল থেকে শিশুকে কলেজে নিয়ে গণধর্ষণ, হত্যা গ্রেফতার: ৪

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নশরতপুর গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তোজাম্মেল হকের ছেলে বাপ্পি আহম্মেদ (২২), দলিল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে কামাল পাশা (৩৫), সানোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম রেজা (২২) এবং মৃত সাহেব আলী শেখের ছেলে লাবলু শেখ (২১)।

 

শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

 

তাদের মধ্যে বাপ্পি ধুনট জিএমসি ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, কামাল পাশা পেশায় মুদি ব্যবসায়ী, শামীম রেজা রাজমিস্ত্রি এবং লাবলু শেখ রঙমিস্ত্রি। তারা সকলেই ধুনট উপজেলার নশরতপুর গ্রামের বসিন্দা।

 

পুলিশ সুপার বলেন, আসামি বাপ্পির পরিবারের সাথে ওই শিশুর বাবার পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দের সূত্র ধরে শিশুকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে বাপ্পী। গত ১৪ ডিসেম্বর নশরতপুর গ্রামে ইসলামী জলসা চলছিল। সেখানে ওই শিশু তার দাদা-দাদি ও দুই ফুফুর সাথে জলসায় যায়। সেখান থেকে অন্য শিশুদের সাথে পাশের দোকানে বেলুন কিনতে যায়।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী বাপ্পি রাত ৯টায় জালসার পাশের দোকান থেকে বাদাম কিনে দেয়ার লোভ দেখিয়ে ওই শিশুকে হাজী কাজেম জুবেদা টেকনিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে বাপ্পি, কামাল, শামীম ও লাবলু শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে নিস্তেজ হয়ে পড়লে বাপ্পি শিশুকে গলাটিপে হত্যা করে।

 

পরে কাটিং প্লাস দিয়ে হাতের আঙুল কাটে তারা, যাতে সবাই মনে করে কোনো হিংস্র পশুর কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর বাপ্পি লাশ কাঁধে করে বাদশার বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে যায়, যাতে বাদশার ছেলে রাতুলকে সবাই সন্দেহ করে। শেষে বাপ্পি বাড়িতে চলে গেলে বাকি তিন আসামি জালসায় গিয়ে ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করে।

 

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ওই শিশু বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সবাই খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টায় স্থানীয়রা মৃতদেহ বাঁশঝাড়ে পড়ে থাকতে দেখে। সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে ধুনট থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় শিশুটির গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছিল এবং বুক ও গালে কামড়ের দাগ ছিল।

 

পরে ১৫ ডিসেম্বর শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তারপরেই পুলিশ মাঠে নামে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদের তত্ত্বাবধানে এবং শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম নিরসলভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। পরে ২৫ ডিসেম্বর রাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।

 

পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের আদালতে প্রেরণ করে ৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023