শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রতারণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

নিজেদের পণ্য বিক্রির প্রসার ঘটাতে কিছু কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, এমনটি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের অজ্ঞাতেই এমন ঘটনা ঘটছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারে না।

 

 

আরএমসি বিল্ডিং কেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান কনস্ট্রাকশন কেমিক্যাল বিক্রি করে আসছে। ডেমরার মাতুয়াইলে এই প্রতিষ্ঠানটির কারখানা রয়েছে। অফিস ঠিকানা চিটাগাং রোডের হাজী নেকবর আলী সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায়। প্রতিষ্ঠানটি তার বুকলেটে গণপূর্ত অধিদফতর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ও এলজিইডির নাম ব্যবহার করে আসছে এবং ফায়ার সার্ভিস ও বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার লোগো ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো ও নাম ব্যবহার করে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কনস্ট্রাকশন কেমিক্যাল বিক্রি করে আসছে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের কাটতি বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো ও নাম থাকায় মানুষ নিশ্চিন্তে ওই প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনে নিচ্ছে। একজন ভোক্তা অভিযোগ করেছেন, তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো দেখে পণ্য কিনে প্রতারিত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের লোগো ব্যবহার করার কথা নয়।

 

তারপরেও লোগো ব্যবহার করলে তা আইনের পরিপন্থী। ওই প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে প্রশান্ত মণ্ডল নামের একজন ফোন ধরে নিজেকে জিএম পরিচয় দেন। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের অনুমতিপত্র রয়েছে। নাম লোগো ব্যবহারের অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে প্রশান্ত বলেন, ব্যবসা করার অনুমতিপত্র রয়েছে। তবে অপর একটি সূত্র বলেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানটি শুধু ঠিকাদারি লাইসেন্স দিয়েই বুকলেটে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম লোগো ব্যবহার করে ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ঠিকাদারি লাইসেন্সভুক্ত কিন্তু সিডিউলভুক্ত নয়।

 

২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর বিজয় নগরের একটি অভিজাত হোটেলে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আল জাকির কুরিয়ার অ্যান্ড পার্সেল সার্ভিসের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অফিস-৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্থান। র্দীঘ আট মাসে সারা দেশে কোম্পানির ডিলার-ডিপো দেয়ার নামে দেশের বিভিন্ন উপজেলা-জেলা হতে জামানত বাবদ হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। এ দিকে ডিলার ও ডিপো ভাড়া বাবদও মানুষ লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে। একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তারা সরকারী সংস্থার নাম দেখেই জাকির কুরিয়ার অ্যান্ড পার্সেল সার্ভিসের গ্রাহক হন। একপর্যায়ে ডিপো মালিক ও ডিলাররা চাপ প্রয়োগ করলে তাদেরকে দেখানোর জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে ৩টি গাড়ি নামানো হয়। কয়েকদিন গাড়ি রাস্তায় চললেও পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। আর ডিপো মালিক ও ডিলারদের মোবাইলে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে টাকা প্রেরণ করা হয়। অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতোই মেসেজ দেয়া হয়। কিন্তু ওই মেসেজ দিয়ে কেউ অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি। ডিপো মালিকরা মাসের পর মাস তাদের ঘর ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। এ দিকে চাকরি দেয়ার নাম করে যাদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারাও নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করলে এক সময় জাকির ও তার সহযোগীরা সবাইকে ভুক্তভোগীদের হুমকি দেয়া শুরু করে। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় পল্টন থানায় দু’টি মামলা দায়ের হয়। মামলায় জাকির, তার স্ত্রী শিরিন ও ছোট ভাই মেহরাজকে আসামি করা হয়।

 

রাজধানীর আর কে মিশন রোডের একটি রেললাইনের পাশের একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরের সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘সরকার কর্তৃক অনুমোদিত’। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি তার ছেলে ভর্তি করিয়েছিলেন শুধুই ওই লেখাটুকু দেখে। কিন্তু ভর্তি করিয়ে মনে হয়েছে তিনি ঠকেছেন। যাত্রাবাড়ী মোড়ে বেশ কয়েকটি হোমিও ওষুধ বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘সরকার কর্তৃক অনুমোদিত।’ মাঝেমধ্যেই ওইসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন।

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথ কোনো কাজ করলেই কেবল লোগো বা নাম ব্যবহার করতে পারে। এর বাইরে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের লোগো বা নাম কেউ ব্যবহার করতে পারে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023