নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা আল-মামুনকে (৩৪) এলাপাথারী মারপিট করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সে পৌর আওয়ামী লীগের ৭নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক পদে রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার ফোকপাল সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে নন্দীগ্রাম বাসষ্ট্যান্ড আসার পথে ফোকপাল সড়ক এলাকায় সন্ত্রাসীরা আল-মামুনকে পথরোধ করে এলোপাথারি মারধর করে,মোবাইল ফোন,নগদ টাকা ছিনতাই ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সংবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, রাজাকারপুত্র রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র প্রত্যক্ষ মদদ ও নির্দেশে এ হামলা করা হয়েছে। রাজাকারপুত্র রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ ও তার সহযোগীরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। সেই সঙ্গে এ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে থানার এসআই আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে গত বুধবার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ ধ্বংসে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ও রাজাকার পুত্র জিন্নাহ গংদের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শফিউল আলম ছবি বলেন, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি শফিউল আলম বুলুর বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ করেছিল। যে কারনে শফিউল আলম বুলুকে জেলা আওয়ামী লীগ বহিস্কার করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে পারেনি। অথচ শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দ্যেশ্যে রাজাকার পুত্র রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান একত্র হয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজের বামে বসা ছিল বিগত পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধীতাকারী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত জুয়ারু স্বপন ওরফে ডাবু স্বপন ওরফে গাঁজা স্বপন ওরফে সুদারু স্বপন আর বামে সিএনজি ড্রাইভার শামীম ওরফে গাঁজা শামীম ওরফে ইয়াবা শামীম ওরফে সুদারু শামীম । এরা নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। লিখিত বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শফিউল আলম ছবি বলেন, এসবের পিছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে টিআর,কাবিখা,আর্থিক সহায়তা ও লোকজন দিয়ে স্থানীয় বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজন পৃষ্ঠপোষকতা করছে। যার প্রমাণ রাজাকারপুত্র জিন্নাহ’র পক্ষ অবলম্বন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজনের খোলা চিঠি প্রদান। এসব ঢাকতেই আমাদেরকে হাইব্রিড বলার অপচেষ্টা। আজিজ গংদের সংবাদ সম্মেলনে বারবার “গায়েবী” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যা বিএনপি থেকে আমদানি করা। কারণ বিএনপি প্রতিনিয়ত গায়েবী মামলা,গায়েবী আদেশ,গায়েবী শক্তি এসব শব্দ ব্যবহার করে থাকে। বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজনের সাথে সখ্যতা থাকায় গায়েবী কমিটি শব্দটি বারবার উচ্চারণ করেছে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ও রাজাকারপুত্র জিন্নাহ বিগত সময়ে দলীয় নৌকা মার্কা প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোট করেছে। রাজাকারপুত্র জিন্নাহ নৌকা পেলে তখন আসল নৌকা হয়,আর অন্য কেউ পেলে নকল নৌকা হয়। এই হলো এদের চরিত্র। তারা কখনোই ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। আর এই অভিলাষ থেকেই সংবাদ সম্মেলনে নিজে নিজেই কমিটি ঘোষনা দিয়েছে। যা অত্যন্ত হাস্যকর। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ,রাজারকারপুত্র জিন্নাহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খুন,জখম করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। আর এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল মামুনকে শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে।