শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

১৮ আঘাতে নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ খুনির, দেখে ফেলায় খুন শিশু রিফাতও

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

পুরো শরীরজুড়ে ধারালো ছুরির ১৮টি আঘাত। পেটের বামপাশে করা দুটি আঘাতের স্থানে শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে নাড়িভুঁড়ি। বাকি আঘাতগুলো দুই উরু, তলপেট আর হাতে। যা দেখে তদন্ত সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, খুনির হাত থেকে জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ লড়েছেন গুলনাহার বেগম (৩৩)। আর মায়ের হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় তার মাত্র দুই ফুট দূরত্বে পড়ে ছিল ৯ বছরের শিশু রিফাতের লাশও। মায়ের লাশ বাথরুমের ভেতরে, রিফাতের লাশটি দরজার সাথে লাগোয়া বেসিনে উপুড় হয়ে পড়ে ছিল। শিশু রিফাতের কণ্ঠনালী কেটে ফেলা হয়েছে। তার হাতেও ছুরির দুটি কাটা দাগ ছিল।

 

সোমবার সন্ধ্যায় চান্দগাঁও ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের বিপরীতে রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকার ভাড়াটিয়া গুলনাহার বেগম ও তার ছেলে রিফাতের লাশ সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ শেষে এমন চিত্রই উঠে আসে।

গুলনাহারের মেয়ে ময়ূরী আক্তার জানান, বহদ্দারহাট খাজারোড়ের সিরাজ কসাইয়ের ছেলে ফারুকের সাথে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। ফারুকের সাথে গুলনাহার বেগমের পাতানো ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ফারুক অবসর সময়ে গুলনাহারের বানানো নাস্তা বিক্রি করতো। লকডাউনের সময়েই একইভাবে বিরিয়ানি বিক্রি করছিল ফারুক। ফারুক বিভিন্ন সময়ে টাকার লেনদেন নিয়ে গুলনাহারকে হত্যার হুমকি দিতো।

 

প্রতিবেশীরা জানান, গুলনাহারের স্বামী আরেক বিয়ে করে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে থাকেন। এই সংসারে তার এক মেয়ে দুই ছেলে ছিল। এক ছেলেকে তার বাবা সাথে নিয়ে গেলে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মেয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি পাওয়ার পর তিনি ঘরে নাস্তা বানাতেন। পাতানো ভাই ফারুক তা বিক্রি করতো। তবে তাদের ঝগড়া ছিল নিত্যসঙ্গী।

 

ঝগড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মেয়ে ময়ূরী জানান, ফারুক আমাদের ভালো চলা দেখতে পারতো না। আমাদেরকে হুমকি দিতো ইন্ডিয়ান টিভি সিরিয়াল সিআইডির মতো করে খুন করে লাশ প্যাকেট করে নোয়াখালী পাঠাই দেবো। ময়ূরীর নানার বাড়ি চকবাজার থানার ঘাসিয়াপাড়া এলাকায়। পিতার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়।

 

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এসএম মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, আমরা এ পর্যন্ত যেসব তথ্য উপাত্ত পেয়েছি, সবগুলোকে বিবেচনায় সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। আশা করছি খুনিকে দ্রুত সময়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023