শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

 ‘স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে’ বেলারুশে গ্রেফতার ৬ হাজার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট

বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশ। স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, এ নির্বাচন মোটেও সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি। প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে গত রোববার থেকে বিক্ষোভ করছে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ দমনে স্বৈরাচারী লুকাশেঙ্কো সরকার অভূতপূর্ব বলপ্রয়োগ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। বিক্ষোভের ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত একজন প্রাণ হারিয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন ছয় হাজারেরও বেশি।

 

বেলারুশের বিতর্কিত নির্বাচনের ফলাফল বলছে, ৮০ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা লুকাশেঙ্কো। অন্যদিকে, তার প্রধান বিরোধী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়া পেয়েছেন মাত্র ৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।

 

অথচ জনসমর্থনের দিক থেকে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছেন সভেৎলানা। তার সমর্থকদের দাবি, স্বৈরাচার লুকাশেঙ্কোকে ক্ষমতায় রাখতে নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি এবং জালিয়াতি করা হয়েছে। ‘অনেস্ট পিপল’ নামে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা তথ্যমতে, সভেৎলানা অন্তত ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন। এ কারণে অনেকেই এখন ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।

 

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর গত রোববার থেকেই বেলারুশের রাস্তায় নেমে আসে দেশটির জনগণ। বিক্ষোভের প্রথম রাতেই গ্রেফতার করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার।

 

বুধবার বেলারুশের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ৫০ সাংবাদিক আটক নাহয় আহত হয়েছেন।

 

নির্বাচনে কারচুপি ও ব্যাপক ধরপাকড়ের প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বেলারুশের স্বৈরাচারী সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে চীন-রাশিয়ার মতো স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলো ঠিকই সমর্থন জানিয়েছে লুকাশেঙ্কোকে।

 

১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লুকাশেঙ্কো বিরোধীদলীয় সমর্থকদের ‘ভেড়া’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধী সমর্থকদের বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দেশকে ধ্বংস করার কোনও সুযোগ দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

তবে বিরোধীরা বলছেন ভিন্ন কথা। সভেৎলানা তিখানোভস্কায়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত তার স্বামী প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে আটক করে জেলে ঢোকানোর কারণে পরে প্রার্থী হন সভেৎলানা। কিন্তু তিনিও নিজ দেশে থাকতে পারেননি। গত সপ্তাহে দেশ ছাড়তে হয়েছে তাকে।

 

সভেৎলানার এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের নির্বাচনী প্রচারণা দলের একটি অংশকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ফলে আর কোনও উপায় ছিল না সভেৎলানার সামনে। এদের মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই দেশত্যাগ করেছেন তিনি।

 

সভেৎলানা তিখানোভস্কায়ার সন্তানেরা বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশ লিথুনিয়ায় রয়েছেন। দেশটি বেলারুশ সংকটে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023