স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
রাজবাড়ীতে বেশ কয়েকদিন ধরে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত কিছু কিছু মানুষের বাড়ি ঘর থেকে পানি নামছে। তবে ধীরগতিতে পানি নামায় এখনও বেশিরভাগ দুর্গত মানুষদের বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। অনেকের বাড়িতে পানি নামলেও সেসব স্থানে কাদায় পরিপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান রয়েছে।
প্রায় একমাস ধরে বিভিন্ন স্থানে থেকে এখন তারা কাদা পানির মধ্যেই বাধ্য হয়ে নিজ বাড়িতে যাচ্ছেন। তবে পানি ও কাদার কারণে তাদের অনেক কষ্ট হবে বলে জানান।
পানিতে তলিয়ে বাড়ি থেকে একটু মাথা গোঁজার ঠাই নিয়েছিলেন অন্য স্থানে। বাড়ি থেকে কিছুটা পানি কমে যাওয়ায় জিনিসপত্র নিয়ে ফের নৌকায় করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন তারা।
পানি কমলেও এসব স্থানে বসবাসরত সাধারণ মানুষদের এখনও কমেনি দুর্ভোগ। রান্নাবান্না, গবাদিপশু ও শিশু বাচ্চাদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনেক কষ্টে যাচ্ছে তাদের প্রতিটি মূহুর্ত। বাড়িঘর থেকে পানি পুরোপুরি না নামায় তাদের কষ্ট এখনও রয়েই গেছে।
বানভাসি এসব মানুষ স্কুল, মাদ্রাসা ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছিলো। এখনো অনেকেই সেখানে বসবাস করছে। এ বন্যায় জেলার প্রায় ১২ হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তারা খাদ্য সঙ্কট, গবাদিপশুর খাদ্য সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন।
প্রায় ৬ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে এ দীর্ঘমেয়াদী বন্যায়। বন্যার পানি বেশিদিন স্থায়ী হওয়ায় ভোগান্তিও ছিল বেশি। দুর্গত অনেক স্থানে এখনও সরকারি ত্রাণ পাননি বানভাসি মানুষ। কাজকর্ম না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার পদ্মার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আজ বুধবার বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।