শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

এক চিকিৎসকের আবেগঘন স্ট্যাটাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

ডা: ফারুক ইকবাল নয়ন,  বগুড়া

আমার ১৩ বছরের ডাক্তারি জীবনে কখনো এতটা অসহায় বোধ করিনি। ১৩ বছর আগে যখন ডাক্তারি জীবন শুরু করি, ভাবতেই পারিনি এতটা কঠিন সময় আসবে কিম্বা আসতেই থাকবে।

ডাক্তারি জীবনের প্রথম বছরেই আম্মা দুরারোগ্য cancer এ আক্রান্ত হলেন। শুরু হলো কঠিন সময়। চিকিৎসার জন্য Mumbai গেলাম। ৫ মাসের যুদ্ধ শেষে আম্মা কিছুটা সুস্থ হলে দেশে ফিরে আসলাম।

আম্মাকে নন্দিগ্রামে রেখে ঢাকায় গেলাম। FCPS পাশ করলাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে Duty শুরু করলাম। কত মুমূর্ষু রোগীদের সাথে নির্ঘুম রাত কাটালাম। অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলো, আবার অনেকে সাদা কাফনের কাপড়ে ফিরে গেলো।

রোগীকে সুস্থ করার যুদ্ধ সেই শুরু। এরপরের কর্মস্থল- বারডেম হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়(সাবেক পিজি হাসপাতাল), সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, সবখানেই সেই যুদ্ধ চলতে থাকল। আম্মার অবস্থাও ক্রমশ খারাপ হতে থাকল।

২০১৪ সালে আম্মার মৃত্যুর পর নন্দিগ্রামে ফিরে এলাম। ভাবলাম এই কঠিন ডাক্তারি জীবন থেকে অবসরে যাব।

কিন্তু নিজ এলাকার রোগীরা নানা সমস্যা নিয়ে আসতে থাকল। না করতে পারলাম না। তবে খুব ভালো লাগতো, নিজের এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে।

তাই অবসর ভেঙে আবার শুরু করলাম। এলাকার কাছাকাছি থাকার জন্য Army medical College, Bogura এ জয়েন করলাম ২০১৮ সালে।

রোগীদের আনাগোনা বাড়তে থাকল। বিপদে সাহায্য করতে পারলে খুব ভালো লাগতো। সেই আনন্দেই দিনগুলো কাটতে লাগলো।

কিন্তু বিধি বাম। Corona virus আমার এলাকায় ও হানা দিল সারাদেশের মতো।

এখন পরিস্থিতি আরো খারাপ। প্রতিদিন অনেক জ্বর, কাশির রোগী আসে।

জীবনের মায়া করিনা। অনেক রোগী দেখি। যারা রোগী না, তাদের সচেতন করি। মাস্ক পরতে বলি। রোগীরা সুস্থ হয়ে আরো বেশি জ্বরের রোগী পাঠায়। তাদেরকেও চিকিৎসা দেই। corona dedicated hospital এ পাঠাই।

কিন্তু এই কঠিন সময় যেন আর শেষ হতে চাইছে না। প্রতিদিন কিছু অতি প্রিয় ডাক্তারদের মারা যাবার খবর শুনি। ঘনিষ্ঠ ডাক্তার বন্ধুদের আক্রান্ত হবার খবর পাই। আতংকিত হই। পরিবারের সদস্যদের কথা ভেবে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।

তবুও সকালে ঘুম থেকে উঠেই আবার এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হই।

আমরা যেহেতু ডাক্তার, তাই আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা যেমন বেশি, তেমনি viral load বেশি হবার কারণে গুরুতর ভাবে আক্রান্তের সম্ভাবনাও বেশি।

তাই সবাই মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করি। সবাই যেন সুস্থ থাকি। এলাকার মানুষের যেন সেবা করতে পারি।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য ;

১. Virus genome ভেদে সাধারণ বা মারাত্নকভাবে আক্রমণ করতে পারে। তাই কেউ সামান্য কাশিতে আক্রান্ত হয়, কেউবা গুরুতর ভাবে আক্রান্ত হয়।

২. মুখে mask পরলে ৯৭-৯৯% আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা নাই। বিভিন্ন দেশে এটা প্রমাণিত। তাই সবাই mask পড়ি।

৩. সামাজিক দুরত্ব মেনে চলি।

৪. ফ্রিজ, এসি যথাসম্ভব কম ব্যবহার করি।

৫. বাসায় ফিরে হাল্কা গরম পানিতে গোসল করি বা হাত-পা ধুয়ে ফেলি।

৬. ঘনঘন hand senitizer দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলি।

৭. কাপড় সাবান বা ডিটারজেন্ট পানিতে ধুয়ে ফেলি।

৮. সময় মত ঘুমাতে যাই। দুশ্চিন্তা পরিহার করি। বেশি বেশি আমিষ জাতীয় খাবার খাই। তাতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্হা বেড়ে যায়।

৯. প্রচুর ভিটামিন -সি আছে, এমন খাবার খাই। অধিক গরম পানিতে কিন্তু ভিটামিন -সি নষ্ট হয়ে যায়।

১০. মনে রাখতে হবে, এতো কঠিন বাস্তবতার মাঝে বেচে থাকাই ২০২০ সালের সেরা সাফল্য।

 

অভ্র বাংলা বানানে ভুল হয়ে থাকলে মাফ করবেন। ( ফেসবুক থেকে নেওয়া )

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023