শিরোনাম :
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা বগুড়ায় আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে ১০ দলীয় জোটের সভা শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ৭ জন শিবগঞ্জে অবৈধ মাটি মহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আলোচিতরা কে কোথায় ঈদ করলেন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও ক্যাসিনো কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। তারা কারাভ্যন্তরে নিজ নিজ ওয়ার্ডে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের জন্য যে খাবারে আয়োজন করা হয় তারা সেটাই খেয়েছেন।

 

এদিকে, করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেয়ার ঘটনায় আলোচিত জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনের জীবনের প্রথম ঈদ পালন করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের একটি কক্ষে। এছাড়াও করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ ওরফে শাহেদ করিম সাতক্ষীরায় তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র আইনের মামলায় খুলনার র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের চলছে।

 

অন্যদিকে, পরিবার-পরিজন ছেড়ে ক্যাসিনো কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাট, জি কে শামীম ও যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের বেডে পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করেছেন। সকালে তারা নিজ নিজ কক্ষে নামাজ আদায় করেছেন।

 

গতবছরও ঈদের সময় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে নিজস্ব কার্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী অনেক গরীবদের ঈদ সামগ্রী ও টাকা বিতরণ করেছেন।

 

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১৯ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। পরদিনই চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহ পর মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার আসামি সম্রাটকে নেয়া হয় কাশিমপুর কারাগারে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর বুকে ব্যথার কথা বলে কারাগারের চিকিৎসকের পরামর্শে আবারো তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

 

এছাড়াও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন বহুল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম। অভিযানের সময় বহু টাকা, মাদক, অস্ত্র ও দেহরক্ষী নিয়ে শামীমকে গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশে আলোচনার জন্ম দেয়। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনিও।

 

আমোদ-প্রমোদ আর তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক ব্যবসার আয়ে বিলাসীভাবে চলা আলোচিত নারী নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এখন কাশিমপুর কারাগারে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে র‌্যাবের রিমান্ডের মাঝপথে তাকে কাশিমপুর কারাগারের হাজতে পাঠানো হয়। দুই দফা ২০ দিনের রিমান্ড শেষে ছোট্ট সেলে নিঃসঙ্গ পাপিয়ার আরো ১০ দিনের রিমান্ডের অপেক্ষা।

 

কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সংবেদনশীল আসামি হওয়ায় পাপিয়াকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ একটি সেলে। তার সঙ্গে আর কোনো বন্দি নেই। দিন-রাত একাকী কাটে ছোট্ট কক্ষের চার দেয়ালে। মাঝে মাঝে বই পড়তে দেখা যায় তাকে। বাকি সময় শুয়ে-বসে আর ঘুমিয়েই কাটান একসময়ের পাঁচতারকা হোটেলের বিলাসী গ্রাহক পাপিয়া।

 

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও কারাবন্দিদের জন্য নানা আয়োজন করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও। বন্দিরা যার যার ভবনের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঈদের জামাত আদায় করেছেন। করোনা মহামারীতে কারাগারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছুই করা হচ্ছে। সকালে পায়েস ও মুড়ি দেয়া হয়েছে বন্দিদের। দুপুর বেলায় বন্দিদের জন্য থাকবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ। রাতে থাকবে পোলাও, মুরগী, গরুর মাংস, মিষ্টি ও সর্বশেষ পান সুপারি। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের ৩০০ গ্রাম করে মাংস দেয়া হবে। প্রতি সপ্তাহে বন্দিদের যে মাংস দেয়া হয় সেটা থেকে ঈদ উপলক্ষে তার পরিমাণ দ্বিগুণ। ঈদুল ফিতরের মতো এবারও স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত বন্ধ আছে। তবে আগের নিয়মেই বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে পারবে।

 

কারা অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নয়, সারা দেশের ৬৮টি কারাগারে একই ধরনের খাবার খাবেন বন্দিরা। শুধুমাত্র ঈদের দিন তারা এ খাবার পাবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023