শিরোনাম :

কোচিংয়ে আগ্রহ বাড়ছে সাবেক ফুটবলারদের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

স্পোর্টস ডেস্ক

দেশে প্রতিষ্ঠিত কোনো ফুটবল একাডেমি নেই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সিলেট বিকেএসপিতে একাডেমি শুরু করেও চালু রাখতে পারেনি। পরবর্তীতে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদে ফর্টিজ গ্রুপের মাঠে চালু করেছে একাডেমি। করোনার কারণে সেটাও এখন বন্ধ।

 

প্রতিষ্ঠিত কোনো একাডেমি না থাকলেও দেশের আনাচে-কানাচে অনেক একাডেমি আছে। যার বেশিরভাগই চলছে ব্যক্তি উদ্যোগে। এমন ১৭০টি একাডেমির তালিকা বাফুফে সংগ্রহ করেছে। খুঁজলে আরও পাওয়া যাবে। ছোট হোক কিংবা বড়, একাডেমি মানেই সেখানে এক বা একাধিক কোচ সম্পৃক্ত আছেন। তারা লাইসেন্সধারী হোক কিংবা লাইসেন্সবিহীন।

 

প্রিমিয়ার লিগ থেকে পাইওনিয়ার পর্যন্ত ক্লাবগুলোতেও কাজ করছেন কোচরা। আছে বিভিন্ন জেলা লিগের দল। আরো এটা বলাই যায়, দেশে ফুটবল কোচের চাহিদা একেবারে কম নয়। চাহিদা দিনদিন বাড়ছে।

 

এক সময় ছিল দলগুলো একজনকে দায়িত্ব দিয়ে দিতো কোচ হিসেবে। কারো লাইসেন্স আছে কি নেই, তার বালাই ছিল না। এখন আস্তে আস্তে সবকিছু পেশাদারিত্বের মধ্যে চলে আসছে। যে কারণে শিক্ষিত কোচের চাহিদা বাড়ছে।

 

‘আমি কোচ’-এটা বলেই এখন ডাগআউটে দাঁড়ানোর সুযোগ কমে গেছে। এই যেমন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রধান কোচ হতে হলে ‘এ’ লাইসেন্স থাকতে হবে। সহকারীর জন্য বাধ্যতামূলক ‘বি’ লাইসেন্স।

 

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের প্রধান কোচ ‘বি’ এবং সহকারী ‘সি’ লাইসেন্সধারী হতে হবে। প্রথম বিভাগ ক্লাবের জন্য প্রধান কোচ ‘সি’ লাইন্সেধারী বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও আছে বাফুফের। যার অর্থ লাইসেন্সধারী কোচদের কাজের ক্ষেত্রও বাড়ছে।

 

দেশের আনাচে-কানাচে থাকা একাডেমিগুলোর তালিকা তৈরি করে, তাদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিজেদের আওতায় আনতে যাচ্ছে বাফুফে। এটা এএফসিরই নির্দেশনা। বাফুফের নিবন্ধিত একাডেমিগুলো বিভিন্ন সহযোগিতাও পাবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির একাডেমিগুলোতে প্রধান কোচের যোগ্যতা কমপক্ষে ‘সি’ লাইসেন্সধারী হতে হবে বাধ্যতামূলক করলে পুরো দেশেই বেড়ে যাবে শিক্ষিত কোচের চাহিদা।

 

যে কারণে কোচিংয়ে এখন সাবেক ফুটবলারদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। ছেলে ও মেয়ে-দুই বিভাগেই এখন কোচ হওয়ার আগ্রহীদের তালিকাটা লম্বা। সোমবার ও মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ছেলে ও মেয়েদের ‘সি’ লাইসেন্স অনলাইস কোর্স। এই কোর্সে ৩১ জন মেয়ে ও ৩৫ জন ছেলে আলাদা আলাদা অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় দলে খেলেছেন এমন অনেক ফুটবলার এই কোর্সে অংশ নিয়েছেন। আর শুধু মেয়েদের নিয়ে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্সটাও প্রথম দেশে।

 

সাবেক ফুটবলারদের কোচ হওয়ার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের সিনিয়র কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। ‘আমাদের সময় এমন দেখিনি। এখন দেখছি কোচিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার জন্য অনেকের আগ্রহ। শিক্ষিত কোচ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের চাহিদা বাড়ছে। আর যারা খেলা ছেড়ে দিচ্ছেন, তাদের অনেকে আবার ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে কোচিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার জন্য কোর্স করছেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’-বলছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক।

 

 

 

যারা কোর্স করছেন তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করাটাও জরুরী মনে করছেন দেশের অভিজ্ঞ এ কোচ। তিনি বলেন, ‘বাফুফের এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। বিভিন্ন লিগে বিভিন্ন লাইসেন্সধারী কোচকে বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। তাহলে যারা কোর্স সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট পাবেন তাদের কাজের জায়গা তৈরি হবে। কাজ করতে পারলে তাদের অভিজ্ঞতাও বাড়বে। একজন কোচের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি মানে দেশে ভালো ফুটবলার তৈরি সুযোগও বৃদ্ধি পাওয়া। যারা আগ্রহ নিয়ে কোচিংয়ে আসতে চাচ্ছেন। তাদের সবাই যে ভালো কোচ হতে পারবেন তা কিন্তু নয়। তবে কোচের তালিকা বড় হলে ভালো কোচের সংখ্যাও বাড়বে।’

 

দেশে এখন ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ আছেন ৪৮ জন। ‘বি’ লাইসেন্সধারী কোচ ৮০ জনের মতো এবং ‘সি’ লাইসেন্সধারী কোচের সংখ্যা প্রায় আড়াইশত। মেয়েদের এখনো কোনো ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ নেই। ৭ জন আছেন ‘বি’ লাইসেন্সধারী। ১০ জনের মতো হবেন ‘সি’। নতুন করে ‘সি’ লাইসেন্সের জন্য কোর্স করছেন ৩১ জন। এই ৩১ জনের মধ্যে ৭ জন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়।

 

এনামুল হক, অমিত খান শুভ্র, এনামুল হক শরীফ, প্রাানতোষ, আবদুল বাতেন কোমলসহ জাতীয় দলে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করা শুরু করেছেন। ভার্চুয়ালি করা এই দুই দিনের কোর্স এএফসি অনুমোদন দিলে ঈদের পর থেকে ক্লাস আবার শুরু করবে বাফুফে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023