ডেস্ক রিপোর্ট
ঢাকার সঙ্গে রেল সহযোগিতা বিস্তৃত করছে ভারত। আজ সোমবার বাংলাদেশের কাছে বিরাট সহযোগিতার (গ্রেট এসিসট্যান্স) অংশ হিসেবে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ হস্তান্তর করার কথা ভারতের। বাণিজ্য ও কানেকটিভিটি, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে রেল সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ভারত। এরই মধ্যে বাংলাদেশে রেল কানেকটিভিটি সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে চীন। এর প্রেক্ষাপটে সরকারি সূত্রগুলো বলেছেন, ২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তা পূরণ করতে ভারত এসব লোকোমোটিভ হস্তান্তর করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। আজ সোমবার এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর ও রেলমন্ত্রী পিযুষ গয়াল। অন্যদিকে বাংলাদেশ পক্ষে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও রেলন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে কিছু পুরনো রেলসংযোগ পুনঃস্থাপন করে এবং রেলওয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে রেল সংযোগ বৃদ্ধির জন্য যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ ও ভারত। একটি সূত্র বলেছেন, রেলখাতের মোট ১৭টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকে ভারত লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বা ঋণ সহায়তা দিয়েছে। তাতে ২৪৪ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বার্ষিক শতকরা মাত্র এক ভাগ সুদে এসব ঋণ বাংলাদেশকে প্রস্তাব করেছে ভারত। ৫ বছর স্থগিত থাকার পর এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে। ভারতের মতে, রেলওয়ের ওই ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৯টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকোমোটিভ, ফ্লাট ওয়াগন সরবরাহ, সেতু নির্মাণ ও সিগন্যাল সরঞ্জাম স্থাপন।
ঋণ সহায়তায় যেসব রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে লাইন। এখাতে খরচ ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই প্রকল্প এ বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্প রয়েছে। এ খাতে রেলওয়ের একটি ব্রিজ সহ খরচ ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে। একটি সূত্র বলেছেন, এ ছাড়া তিনটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডাবল লাইন রেলপথ বসানো। এতে মিটার গেজ লাইনকে ডুয়েল গেজ লাইনে পরিবর্তন এবং নতুন ডুয়েল গেজ লাইন স্থাপনের কাজ রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক লাইনের আখাউড়া-আগরতলা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার আন্তঃসীমান্ত রেলসংযোগ স্থাপনের কাজ রয়েছে। ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে মালবাহী গাড়ি চলাচলে সুবিধা হবে। ভারত ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের চলাচলও সহজ হবে।
ওদিকে বিআরআই-এর উদ্যোগের অধীনে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেললাইনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃতকরণে কাজ করছে চীন। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চারটি রেল সংযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের বেনাপোলকে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভারতের গেদে থেকে বাংলাদেশের দর্শনা। ভারতের সিঙ্গাবাদ থেকে বাংলাদেশের রোহনপুর এবং ভারতের রাধিকাপুর থেকে বাংলাদেশের বিরল পর্যন্ত রেল সংযোগ রয়েছে। কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করছে মৈত্রী এক্সপ্রেস। আবার কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত চলাচল করছে বন্ধন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনই যাত্রীবাহী। বর্তমানে করোনা মহামারির কারণে অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।