শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

করোনার এই সময়ে সর্দি-কাশি আর গলাব্যথায় যা করবেন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০

হেল্থ ডেস্ক

করোনাভাইরাসের এই সময়ে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। অনেকের অভিযোগ, তারা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পৃথক ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময় দেশে সর্দি-কাশি একটি সাধারণ বিষয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব থাকে। তাদের ভাষায়, এটি মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা। করোনার মহামারিতে এই সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে হঠাৎ জ্বর, শুষ্ক কাশি, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া হতে পারে গলা ব্যথা এবং সর্দি। কারও কারও ক্ষেত্রে কফ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং তা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে অধিকাংশ মানুষ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সপ্তাহখানেকের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণেও সর্দি-কাশি রয়েছে। বছরের এই সময়টিকে অনেকেরই মৃদু জ্বর ও সর্দি-কাশি থাকে। কিন্তু করোনার এই সময়ে অনেকেই আগের চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন।’

 

কারও যদি জ্বর থাকে এবং সামান্য গলা ব্যথা থাকে, তাহলে বাড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা নেওয়া ভালো। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল এবং কুসুম গরম পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই মহাপরিচালক।

 

এ ছাড়া তিনি জানান, গলা ব্যথা থাকলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গল করা যেতে পারে। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে। অবস্থা জটিল না হলে হাসপাতালে আসার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও তিনি জানান।

 

মহাপরিচালক আরও জানান, সরকার হাসপাতালগুলোতে পৃথক আউটডোর ও ইমার্জেন্সি বিভাগ খোলার চেষ্টা করছে। যেখানে সর্দি-কাশির রোগী বা এই ধরনের সমস্যায় যারা আছেন, তারা যেতে পারেন। আর করোনা সংক্রমণের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যেসব হাসপাতাল নির্ধারিত রয়েছে, সেসব জায়গায় সন্দেহভাজন রোগীদের পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ঠেকানোর ৫ উপায়

 

যে কেউ খুব সামান্য কারণেই ঠান্ডা বা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যেই মানুষের সর্দি-জ্বর ভালোও হয়ে যায়। তবে কয়েকটি উপায়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত সময়ে সর্দি-জ্বর ভালো করা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

 

মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু প্রতিরোধের জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেগুলো হলো-

 

১. টিকা নেওয়া

 

ফ্লু থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিবছর টিকা নিতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাধারণত গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্যও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

 

২. নিয়মিত হাত ধোয়া

 

হাত পরিষ্কার রাখলে ফ্লু ও অন্যান্য সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। তাই নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। সাবান দিয়ে ভালো মতো হাত ধোয়ার পর তা মুছে শুকনো করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

৩. চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ না করা

 

চোখ-নাক-মুখ, এই তিনটি স্থান দিয়েই মূলত শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যা কিছু ভেতরে প্রবেশ করছে, তার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে মুখে হাত না দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

 

৪. অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা

 

ফ্লু একটি সংক্রামক বিষয়। যেখানে জনসমাগম বেশি, সেখানে ফ্লু খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই এ ধরনের গণজমায়েত এড়িয়ে চলা উচিত।

 

৫. শরীর খারাপ লাগলে বাসায় থাকুন

 

আপনি যদি ফ্লু’র মাধ্যমে অসুস্থ হন, তাহলে অন্যদের সংস্পর্শে গেলে তারাও অসুস্থ হতে পারেন। যারা ক্যানসার বা হৃদরোগে আক্রান্ত কিংবা এইচআইভি পজিটিভ – তাদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অসুস্থ দিনগুলো বাসায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

চিকিৎসকরা আরও যেসব পরামর্শ দিচ্ছেন-

 

উষ্ণ পরিবেশ

 

সর্দি-জ্বরের সময় উষ্ণ পরিবেশে বা উষ্ণ পোশাক পড়ে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

প্রচুর তরল পান

 

এই সময় প্রচুর পরিমাণ পানি বা ফলের রস পানের মাধ্যমে পানিশূন্যতা রোধ করলে ঠান্ডা থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যেতে পারে।

 

গলার যত্ন

 

ঠান্ডার একটি সাধারণ উপসর্গ গলা ব্যথা। লবণ পানি দিয়ে গার্গল এবং লেবু ও মধু দিয়ে হালকা গরম পানীয় তৈরি করে পান করলে গলা ব্যথার দ্রুত উপশম হতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023