নন্দীগ্রামে বিধিনিষেধ মানছেন না নিম্ন আয়ের মানুষেরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারি বিধিনিষেধ মানছেন না নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সরকারি ভাবে চাল দেওয়ার খবর শুনেই শত শত নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন উপজেলা পরিষদে।
জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে হানা দেওয়া ভয়াবহ করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমণের পর এ নিয়ে মানুষের মাঝে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। মুখে মাস্ক পরা, হাতে গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, হেক্সিসল দিয়ে হাত পরিস্কার, ঘরের মধ্যে অবস্থানের মতো কড়াকড়ি নির্দেশনা মানার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে শহরের গন্ডির মধ্যে কিছু মানুষ এ বিধি মানলেও মানছেন না গ্রামের অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ।

 

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নে ১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ি উপজেলা ও পৌরসভায় এক হাজার ৫’শ জন কর্মহীন পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবে। রোববার সকালে উপজেলা পরিষদে কর্মহীনদের চাল দেওয়া হবে। এমন খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শত শত কর্মহীন ভ্যান-রিকসা চালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় জমায়।
পাশাপাশি গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে বিকেল না হতেই বেড়ে যাচ্ছে লোক সমাগম। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ দূরুত্ব বজায় রাখতে বার বার বলা হচ্ছে। করোনা সর্স্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। অব্যাহত প্রচার-প্রচারণার পরও নিম্ন আয়ের মানুষদের সচেতন করা যাচ্ছে না।

 

এদিকে কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি ছুটে চলছেন, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানা। তিনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এতে চাল, আলু, তেল, ডালসহ একটি পরিবারের এক সপ্তাহের খাদ্যসামগ্রী রয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এক হাজার ৫’শ পরিবারের মাঝে এসব খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ভ্যান চালক আবুল কালাম, ওবাইদুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে রিক্সা-ভ্যান বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। সরকারি ভাবে চাল দেয়ার খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদে এসেছি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। তাহলে খাবার পাবো কথায়। এ কথা চিন্তা করেই আসা হয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শারমিন আখতার বলেন, সরকরি ভাবে বিনামূল্যে চাল দেয়ার খবর শুনে তারা এসেছে। তাছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে চেয়ারম্যানদের চাল দিতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023