শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

করোনা এড়াতে ১৫ দিন বাড়িতে থাকুন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২০

হেল্থ ডেস্ক

বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ করোনাভাইরাস। শুক্রবার পর্যন্ত এতে ২ কোটি ৭৫ হাজার ৯৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১১ হাজার ৪০২ জন। তবে করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার চাইতে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই এ মুহূর্তে বেশি দরকার। এছাড়া অহেতুক ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলাটা উচিত। তাই তো সরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটাই পরামর্শ, আগামী কিছু দিন অন্তত বাড়িতে থাকুন।

 

 

এই বিষয়ে কনসালট্যান্ট পালমোনলজিস্ট সৌম্য দাস বলেন, ইটালির ভয়াবহ পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ কে অবহেলা করলে কী মারাত্মক ফল হতে পারে। অবিবেচকের মতো কাজ করলে অন্যরাও ঘোর বিপদে পড়তে পারেন। অনেকের ধারণা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে বা মাস্ক পরে স্বাভাবিক কাজ করায় কোনও বাধা নেই। কিন্তু দোকানে এ দু’টি বস্তুই অমিল। এ ক্ষেত্রে সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ, নিতান্ত দরকার না পড়লে বাড়ির বাইরে না যাওয়া।

 

তিনি আরও বলেন, তবে সবার পক্ষে বাড়িতে থাকা সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই ভাইরাসের থাবা থেকে মুক্তি পেতে মুখে রুমাল বেঁধে রাখতে পারেন। হাঁচি-কাশি হলে অবশ্যই মুখে চাপা দেওয়া উচিত। এটা ঠিক, সচেতনতা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। শুধু কোভিড -১৯ই নয়, অন্যান্য ফ্লু ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় এটিই। আসলে সার্স-কোভ-২ করোনা ভাইরাসের চরিত্রের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে এখনও আমরা অনেক কিছুই জানি না। তাই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত হারে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, ড্রপলেট অর্থাৎ হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসবাহিত হয়ে অসুখটা ছড়িয়ে পড়ে। অযথা নাকে, মুখে বা চোখে হাত দেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যেস। এই বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

 

পালমোনলজিস্ট সৌম্য দাস বললেন, কোভিড -১৯ করোনাভাইরাস সব থেকে ক্ষতি করে ধূমপায়ীদের। তাই এই সুযোগে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। বাড়িতে বসে ঘন ঘন সিগারেট টানলে নিজের ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের অন্যরাও অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কোনও ভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

 

তার মতে, এই ভাইরাস সরাসরি শ্বাসনালী ও ফুসফুসকে আক্রমণ করে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম বা এআরডিএস হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রোগীকে ভেন্টিলেশনে দিয়েও অনেক সময় শেষরক্ষা করা যায় না। এই অসুখ আটকাতে সচেষ্ট হতে হবে সবাইকে। শুধুমাত্র চিকিৎসক বা সরকার কিন্তু এই মহামারি আটকাতে পারবেন না। সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভাইরাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এখনই।

 

হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা মাস্ক না থাকলে যা করবেন

  • মুখে রুমাল চাপা দিয়ে হাঁচি-কাশি বাধ্যতামূলক।

 

  • নাক, মুখ বা চোখে হাত দেওয়া মানা। দিলেও হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। বাড়িতে থাকলে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত।

 

  • করমর্দন বা জড়িয়ে ধরে নয়, দূরত্ব বজায় রেখে অভ্যর্থনা জানান।

 

  • দরজা খুলতে হাতের বদলে কনুই ব্যবহারে করুন।

 

  • কোভিড-১৯ ভাইরাস থুতু বা কফের মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকে। তাই যেখানে সেখানে থুতু ফেলবেন না।

 

  • বাইরে থেকে ফিরে সোজা বাথরুমে পোশাক ছেড়ে গরম জলে ভিজিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে সাবান দিয়ে কাচা পোশাক পরে তবেই ঘরে ঢুকুন।

 

আশা করা যায়, এই ভাবেই সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় কোভিড-১৯ ভাইরাসের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023