শিরোনাম :
১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ইরানে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্নের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির

দুর্যোগকালে কতটুকু নিরাপদ সচিবালয়?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

রাজধানীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি, উভয় কর্তৃপক্ষেরই অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। ছাড়পত্র নিতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকেও। যদিও দেখভালের দায়িত্ব মূলত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। তবে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই রাজধানীতে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার ভবন। যেখানে নেই অগ্নিকাণ্ড বা দুর্যোগকালীন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমন ত্রুটিপূর্ণ ভবনের তালিকার বাইরে নয় খোদ বাংলাদেশ সচিবালয়ও। দেশের প্রশাসনিক এ কেন্দ্রের ১০টি ভবনেই রয়েছে অগ্নিকাণ্ড বা দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো না কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি।

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের একটি প্রতিবেদনে এ ত্রুটি-বিচ্যুতির তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি সরকারি বিভিন্ন ভবন সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফায়ার সার্ভিসের টিম। সেই ধারাবাহিকতায় সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় তারা। পরে এ বিষয়ে টিমটি ওই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

 

প্রতিবেদনটি বলছে, ১০টি ভবনের মধ্যে পাঁচটিতেই অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূমিকম্পের মতো দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযান এক রকম অসম্ভব। এর কারণ ভবন নির্মাণজনিত বিচ্যুতি।

 

ফায়ার সার্ভিসের তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের ১নং ভবনে নেই ফায়ার কন্ট্রোল রুম, ডিটেকশন ও অ্যালার্ম সিস্টেম। সব সিঁড়িও ছাদে গিয়ে মেলেনি। আবার ছাদে নেই লাইটিং প্রটেকশন সিস্টেম। নেই ফায়ার লিফট, পিএ সিস্টেম, ইমার্জেন্সি এক্সিট ও এক্সিট সাইন। ভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত জনবল ও কর্মকর্তারাও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক প্রশিক্ষিত নন।

 

 

 

প্রতিবেদন মতে, ২নং ভবনে ফায়ার পাম্প নেই। নেই আলাদা আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার, হাইড্রেন্ট ও ফায়ার ডিপার্টমেন্ট কানেকশন। ফায়ার কন্ট্রোল রুম ও রাইজারও নেই। সিঁড়ি একটি থাকলেও তা ছাদে উন্মুক্ত হয়নি। ঠিক নেই দরজার সুইং, নেই ডিটেকশন ও অ্যালার্ম সিস্টেম। এ ভবনেও নেই লাইটিং প্রটেকশন সিস্টেম, পিএ সিস্টেম, ইমার্জেন্সি এক্সিট ও এক্সিট সাইন। এ ভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত জনবল ও কর্মকর্তারাও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক প্রশিক্ষিত নন।

 

৩নং ভবনেরও প্রায় একই অবস্থা। ফায়ার লিফট ছাড়া সবদিক থেকেই ২নং ভবনের মতো সমস্যায় জর্জরিত সচিবালয়ের এ ভবন। ৪নং ভবনেও প্রায় একই সমস্যা। এর বাইরে ভবনটির উল্লেখযোগ্য সমস্যা হচ্ছে- জরুরি নির্গমন সিঁড়ি ও ফায়ার লিফট নেই। প্রতি ফ্লোরে নেই সেফটি লবি। এছাড়া তিনটি সিঁড়ি থাকলেও দুটিই ছাদ অবধি খোলা নেই।

 

প্রতিবেদন মতে, ৫নং ভবনেও একই সমস্যা। এখানে বরং বাড়তি সমস্যা, সিঁড়ির প্রশস্ততা পর্যাপ্ত নয়। মাত্র ৩ দশমিক ৫ ফিট, এ সিঁড়ি আবার ছাদেও মেলেনি। অর্থ; শ্রম ও কর্মসংস্থান; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়;, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দফতর রয়েছে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে। নয়তলা বিশিষ্ট ভবনটিও উপরে উল্লিখিত সব ত্রুটি-বিচ্যুতিপূর্ণ।

 

ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দফতর সচিবালয়ের ৮নং ভবনে। ৫০০ জনবলের জন্য মাত্র একটি সিঁড়ি এ ভবনে, যা মাত্র ৩ দশমিক ৫ ফিট প্রশস্ত। এটি ছাদে গিয়েও মেলেনি। ৯ ও ১০নং ভবনেও একই সমস্যার কথা এসেছে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে।

 

এমন অনেক সমস্যা পরিবহন পুল ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভবনেও। এ ভবনে জরুরি মুহূর্তে উদ্ধার কার্যক্রমে বেগ পেতে হবে তুলনামূলক বেশি। বহুতল এ ভবনে আলাদা আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার, জরুরি নির্গমন সিঁড়ি ও ফায়ার লিফট— কিছুই নেই। আবার ফায়ার সেফটি ফ্লোর লবিও নেই। তিনটি সাধারণ সিঁড়ির অবস্থাও একই। ক্রটিপূর্ণ দরজার সুইং। নেই স্মোক ডিটেকশন ও অ্যালার্ম সিস্টেম। পার্কিংয়েও পাওয়া যায়নি স্প্রিংকলার সিস্টেম।

 

সচিবালয়ের ১০নং ভবনের বাইরে গণপূর্ত ভবনের পাঁচটি টিনশেডও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই টিনশেডে নেই অ্যালার্মিং ও স্মোক ডিটেকশন সিস্টেম। নেই পর্যাপ্ত এক্সটিংগুইশারও (বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সৃষ্ট আগুন নেভানোর জন্য)।

 

 

 

প্রতিবেদনটির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (অপারেশন) আব্দুল আলিম বলেন, সপ্তাহখানেক আগে অধিদফতরের পক্ষ থেকে সচিবালয়ের ভবনগুলোর ওপর আমাদের ইন্সপেকশন হয়, এতে উঠে আসা পর্যবেক্ষণগুলো লিখিত আকারে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

 

জানতে চাইলে সরকারি ভবনগুলোর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রো) ড. মইনুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। যোগাযোগ করলে কল রিসিভ করেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও।

 

সম্প্রতি সচিবালয়ের ৪নং ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। সচিবালয়ের প্রবেশদ্বারে সমস্যা থাকায় মহড়ার জন্য আনা অধিকাংশ গাড়িই ভেতরে ঢুকতে পারেনি।

 

এ বিষয়ে মহড়ার ইন্সিডেন্ট কমান্ডার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকার সহকারী পরিচালক শালেহ উদ্দীন সেসময়  বলেন, সচিবালয়ে পিক আওয়ারে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে তা মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023