শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

নিজের ঘরের সাথে মেয়ের ‘নতুন ঘরের’ স্বপ্নও ছাই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

মেয়ের চাকরির তিন লাখ টাকা সমিতিতে জমেছিল। জাকিয়া বেগমের ইচ্ছা ছিল ভালো ঘর দেখে সে টাকাতেই ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। সেজন্য বস্তি ছেড়ে ভালো পরিবেশে থাকার ইচ্ছায় প্রতিবেশীদের পরামর্শে টাকাগুলো তুলে এনে ঘরেও রেখেছিলেন। কিন্তু সোমবার ভোরে পশ্চিম মারদারবাড়ির রেলওয়ে বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে ঘরের সাথে ছাই হয়ে গেছে সেই কষ্টের টাকা। টাকা, নিজের ঘর হারিয়ে জাকিয়া বেগম এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে দিশাহারা।

 

সোমবার ভোরে নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার রেলওয়ে এসআরবি এলাকায় গড়ে উঠা বস্তির শতাধিক ঘর আগুনে পুড়ে যায়। রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা বস্তিটি ‘বেগম রাইচ মিল কলোনি’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, বস্তির ছোট ছোট কাঁচা ঘরগুলোতে নিম্ন আয়ের অন্তত ৫০০ পরিবারের বসবাস ছিল। সকালে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, সহায়-সম্বল হারানো মানুষগুলো আবার লড়াইয়ে নেমেছে পোড়া মালামাল সরাতে। আগুনে সব হারিয়ে কাঁদছেন জাকিয়া বেগম, পাশে নির্বাক মেয়ে আমেনা, যার বিয়ের জন্য জমানো টাকাও ছাই হয়ে গেছে

 

আগুনে সব হারিয়ে কাঁদছেন জাকিয়া বেগম, পাশে নির্বাক মেয়ে আমেনা, যার বিয়ের জন্য জমানো টাকাও ছাই হয়ে গেছে সেখানেই নিজের পোঢ়া ঘরের সামনে দেখা গেল বিলাপ করছেন জাকিয়া বেগম। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে তার পরিবার। বড় ছেলে অবশ্য বিয়ে করে বস্তিতেই আলাদা ঘর নিয়ে থাকেন আর ছোট ছেলে কাজ করে গ্যারেজে। মেয়ে আমেনা আক্তার একটি পোশাক কাজ করেন। পুড়ে যাওয়া ঘরে স্বামী, স্ত্রী আর মেয়ে থাকতেন।

 

জাকিয়া  জানান, কর্ণফুলী ঘাটে কিংবা গোডাউনে আনার পথে মাঝিরঘাট, পশ্চিম মাদারবাড়ি, বাংলা বাজার এলাকার রাস্তায় যেসব গম পড়ে থাকে, সেসব কুড়িয়ে বিক্রি করেন তিনি। অসুস্থ স্বামী বেশিরভাগ সময় ঘরে থাকলেও মাঝে মাঝে দিনমজুরি করেন। মেয়ের বেতন সমিতিতে জমা রেখে গম বিক্রির টাকায় চলে তার সংসার।

 

মেয়ের বিয়ের জন্য সমিতিতে জমানো সেই তিন লাখ ১০ হাজার টাকাই তুলে এনে ঘরে রেখেছিলেন । ভালো ঘরে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিবেশীদের পরামর্শে বস্তির বাইরে ঘর ভাড়া নেওয়ার ইচ্ছে ছিল তার।

 

এ মাসের শেষে নতুন বাসায় যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে জাকিয়া বেগম বলেন, “মেয়ের বিয়ের জন্য ছেলে দেখা হচ্ছিল। বস্তি ছেড়ে যাওয়ার আগে টাকা সমিতি থেকে তুলে রাখছিলাম।” কিন্তু আগুন থেকে নিজেদের প্রাণ বাঁচলেও টাকা আর ঘরের মালামাল রক্ষা করতে পারেননি, বলেই বিলাপ করে ওঠেন তিনি। জাকিয়ার মতো আগুনে সব হারিয়েছেন ভ্যানচালক লোকমান হোসেন। ছোট থেকেই বেড়ে ওঠা এই বস্তিতে। স্ত্রী, সন্তানসহ আটজনের সংসার তার।

 

“ভোরে বস্তির পশ্চিম দিক থেকে আগুন লাগে। চোখের পলকে ছড়ায়া পড়ে আগুন। নিজেরা জীবন নিয়ে বাইর হইতে পারলেও কিছুই বাইর করতে পারি নাই,” বলেন লোকমান। বস্তির আরেক বাসিন্দা ট্রাকচালক আলাউদ্দিন আগুন লাগার পরপরই পরিবারের ১২ জন সদস্যকে নিয়ে ঘর থেকে বের হন এক কাপড়ে। আর কিছুই বাঁচাতে পারেননি। বস্তিটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ড এলাকায়।

 

এখানকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মো. জোবায়ের বলেন, যে জায়গায় বস্তিটি গড়ে উঠেছে সেটি রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। তার জানা মতে জলিল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির নামে জায়গাটি বন্দোবস্ত থাকলেও এখন আর নেই। এই বস্তিতে প্রায় ৫০০ পরিবারের বাস। যাদের সবকিছু পুড়ে গেছে আগুনে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কাপড় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কাউন্সিল জোবায়ের অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম  জানান, ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে বস্তিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের চারটি ইউনিটের ১৫টি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল আটটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান তিনি। তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে বলে আজিজুল জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023