‘সিঁদুর’-এর ঘা গায়ে নিয়েই যুদ্ধে নামার চেষ্টা! পাকিস্তানের আকাশ দখল করবে কোন কোন ভারতীয় জেট?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫

মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় পাকিস্তান। ভারতের রাফাল-সহ মোট পাঁচটি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। অন্য দিকে, পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশটির এ হেন দাবিকে ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডল (সাবেক টুইটার)। তবে এর জেরে ফের এক বার খবরের শিরোনামে চলে এসেছে ভারতের লড়াকু জেটগুলির সক্ষমতা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, মাঝ-আকাশের ডগফাইটে পাক বিমানবাহিনীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এর অন্যতম কারণ হল রাফাল। ফরাসি সংস্থা দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের তৈরি সাড়ে চার প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান মোট ৩৬টি রয়েছে নয়াদিল্লির হাতে। ২০১৬ সালে প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সেগুলি ভারতীয় বায়ুসেনাকে সরবরাহ করে ওই ফরাসি সংস্থা।লড়াকু জেট রাফালে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হল মেটিওর এবং স্ক্যাল্প।

দ্বিতীয়টির আবার পোশাকি নাম ‘স্টর্ম শ্যাডো’ বা ঝড়ের ছায়া। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর। ফলে এই অভিযানে রাফাল ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও সরকারি ভাবে এই নিয়ে কোনও তথ্য দেয়নি নয়াদিল্লি। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতের উপর প্রত্যাঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাক সেনা ও সরকার। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

তাঁদের দাবি, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ পুরোদস্তুর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে আকাশের দখল কে আগে নেবে, তার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। আর তখন বেশ কয়েকটি ভারতীয় জেটকে ইসলামাবাদ, সিয়ালকোট বা রাওয়ালপিন্ডির আকাশে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যেতে পারে। সেই তালিকায় রাফালের পাশাপাশি অবশ্যই থাকবে রাশিয়ার তৈরি এসইউ-৩০ লড়াকু জেট। একে ভারতীয় বিমানবাহিনীর শিরদাঁড়া বললেও অত্যুক্তি হবে না। কারণ, বিমানবাহিনীর হাতে যত ধরনের বিমান রয়েছে, তার মধ্যে সুখোই ৩০-র সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। রুশ যুদ্ধবিমানগুলিও আকাশ ও মাটিতে হামলা চালাতে সিদ্ধহস্ত। সম্প্রতি এগুলিতে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

ফলে সুখোইয়ের শক্তি কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিদেশি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় বায়ুসেনা। এই যুদ্ধবিমানগুলি ওজনে হালকা হওয়ায় পাহাড়ি যুদ্ধে খুবই কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর মহড়ায় শক্তি প্রদর্শন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে তেজস।

এগুলি ছাড়াও ফ্রান্সের তৈরি মিরাজ-২০০০, রাশিয়ার তৈরি মিগ ২১ বাইসন ও ব্রিটেনের তৈরি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় বায়ুসেনা। এই যুদ্ধবিমানগুলি বেশ পুরনো। আর তাই এগুলিকে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এগুলি ছাড়াও চেতক ও চিতা নামের আরও দু’ধরনের কপ্টার রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে। এগুলি মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহার করে বিমানবাহিনী। এই দু’টি কপ্টারই বেশ পুরনো হওয়ায় এগুলিকে বদল করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023