আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পাঞ্জাবপ্রদেশে শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত এমপিরা। এ সময় তাদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন বিদায়ী স্পিকার সিবতাইন খান। এতে পিটিআইয়ের সরকার গঠনের আশা একেবারে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো। এমতাবস্থায় পিটিআই ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারচুপি অভিযোগ এনে পাকিস্তান সুপ্রিম কোটে একটি পিটিশন দাখিল করেছে পিটিআই। তবে তাতে কতটা লাভবান হবেন ইমরান তা নিয়ে সন্দিহান পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এছাড়া পাকিস্তান সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলার যে প্রক্রিয়া ইমরান খান করেছিলেন, তাতেও জল ঢেলেছে আইএমএফ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আইএমএফকে পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধ করতে চিঠি দিয়েছিলেন ইমরান। তাতে আইএমএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা পাক সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
এর ফলে নতুন করে হিসাবের অংক সাজাতে হবে ইমরান খানকে। নয়তো পিটিআই যে জনসমর্থন দেশটিতে পেয়েছে, তার অচিরেই নষ্ট হবে। এমন ভাবনা জুগিয়ে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ইমরানের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে। কি করবেন ইমরান? তিনি কি পারবেন নতুন সরকার গঠনের পর তার ও পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে আসার রাজনৈতিক চাপকে সামলে আবারও পাকিস্তানের মসনদে বসতে? নাকি আবারও সেনাবাহিনীর কাছে মাথা নুইয়ে ক্ষমতায় যেতে হবে তাকে?
জিও টিভির খবর, সময় বলে দিবে ইমরানের রাজনৈতিক সাফল্য ব্যর্থতা। তবে এই মুহুর্তে চুতুর্মুখী চাপে আছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী!
এদিকে পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে পিটিশন জমা দিয়েছে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)। শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে পিটিআই এ সংক্রান্ত একটি পিটিশন জমা দিয়েছে।
পিটিশনে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট ১৮০ আসনে জয়ী হয়েছে পিটিআই। কিন্তু কারচুপি ও কারসাজির মাধ্যমে মাত্র ৯২ আসনে পিটিআই প্রার্থীদের জয়ী দেখানো হয়েছে। দলটিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে এই ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।
সর্বোচ্চ আদালতে পিটিশন জমা দেয়ার তথ্যটি শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পিটিআইয়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা শের আফজাল মারওয়াত। তিনি আরও জানিয়েছেন, পিটিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার নিয়োগকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা দিয়েছিলেন আলী খান নামে অবসরপ্রাপ্ত এক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা। গত বুধবার সেই আবেদনের ওপর শুনানির দিনও নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।
কিন্তু সেদিন আবেদনকারী আদালতে উপস্থিত না থাকায় সেই পিটিশন বাতিল করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে আলী খানকে ৫ লাখ রুপি জরিমানাও করেন সর্বোচ্চ আদালত।
অন্যদিকে ইমরানের দাবি ‘প্রত্যাখ্যান’ করে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করবে আইএমএফ বলে জানিয়েছে সংস্থাটির কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে আইএমএফের সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পাক সরকার তাদের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে এবং সবচেয়ে দরিদ্রদের সুরক্ষা নিশ্চিতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো আইএমএফ সমর্থন করে। দেশটির প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো। দেশটির সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। খবর জিও নিউজ ও পাকিস্তান ট্রিবিউনের।
জুলি কোজাক আরও বলেন, শিগগিরই পাকিস্তানকে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ১৯০ কোটি ডলার দেওয়া হবে। গত ১১ জানুয়ারি পাক সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে।
জুলি কোজাককে নির্বাচনে কারচুপির যে অভিযোগ ইমরান খান তুলেছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চলমান কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি মন্তব্য করব না। এর আগে পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আইএমএফকে চিঠি দেওয়ার কথা জানান ইমরান খান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রথম, পিএমএল-এন দ্বিতীয় ও পিপিপি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তবে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদ দুটির মনোনয়ন নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পিপলস্ পার্টি। এর ফলে আসিফ আলি জারদারিকে রাষ্ট্রপতি এবং শেহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতে যাচ্ছে দেশটি।