দৈনিক আমার সোনার দেশ পত্রিকায় বগুড়া পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা সম্পর্কে সিরিজ প্রতিবেদনগুলো এখন বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষের দারুণ আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে অনলাইন পাঠক প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র বলেছে কেউ কেউ প্রতিবেদনের ডাউনলোড ক্লিপ লন্ডনে তারেক রহমানের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে। মেয়র বাদশার এসব অনৈতিক তথ্যভিত্তিক সংবাদ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়ায় লন্ডনে তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট বিএনপি পাড়াতেও তোলপাড় চলছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা জানিয়েছেন। সুত্রটি নিশ্চিত করেছে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা ও তার পরিবারের উত্থান অত্যন্ত পরিকল্পিত। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের একদম শুরুর দিকের কয়েকজন নেতা এপ্রসঙ্গে জানান, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে বগুড়া শহরের চিহ্নিত একটি দরিদ্র মধ্যবিত্ত্ব পরিবারের সন্তান ছিল বাদশা। সেকারনেই এই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের লেখাপড়ার রেকর্ড খুব ভালোনা। মেয়র রেজাউল করিম বাদশাসহ সংশ্লিষ্টদের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি পাস দিয়েছেন, সেটার যদি একটা আনুপুর্বিক তদন্ত হয় তাহলে মিলবে চাঞ্চল্যকর তথ্য, বলেছেন রেজাউল করিম বাদশার বন্ধু ও ঘনিষ্টরা। তারা জানান, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে বদলাতে শুরু হয়ে যায় বাদশা পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যের চাকা। রেজাউল করিম বাদশা বড় ভাই কর্তৃক সম্পাদিত বিএনপি বিরোধী বগুড়া থেকে একটি পত্রিকায় হুহু করে বানের ¯্রােতের মত আসতে থাকে সরকারি বিজ্ঞাপন। এছাড়া এর আগেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বগুড়া শহর কমিটির কার্যালয়টি রাতারাতি পরিণত হয় সেই পত্রিকার কার্যালয়। রেজাউল এ্যান্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে বিএনপি নেতা বাদশা এবং তার পরিবারের অনেক সদস্যের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। চীরস্থায়ীভাবে বগুড়ার পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতি নামক মর্যাদাবান সংগঠনটি পরিণত হয় বাদশার পৈত্রিক সম্পত্তিতে। বগুড়া থেকে চীরতরে হারিয়ে যায় সৃজনশীল পুস্তকের প্রকাশনা। সেস্থলে শুরু হয় নকল বইয়ের রমরমা কারবার। এই সেক্টর থেকে রেজাউল করিম বাদশা ও তার পছন্দনীয় ব্যক্তিদের আয় আসে লাখ লাখ টাকা। ৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদের বিএনপি শাসনামলে ঠিকাদারী ব্যবসার পুরোটা নিয়ন্ত্রন করেন রেজাউল করিম বাদশার সিন্ডিকেট, তবে দোষী হিসেবে চিহ্নিত হয় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও তৎকালীন সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান লালু ও বিএনপি নেতা চাকু লিটন গং। বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের নির্মান ঠিকাদারীতে বিপুলভাবে লাভবান হন রেজাউল করিম বাদশা গং। নিজের লভ্যাংশ ছাড়াই সিন্ডিকেট থেকে তোলা বিট মানির অর্থে ওই সময় পৌনে এককোটি টাকায় একটি প্রিন্টিং মেশিন কেনেন রেজাউল করিম বাদশা। যেসময় পৌনে একটি টাকায় প্রিন্টিং মেশিন ক্রয় করেন তিনি ওই সময় তার মেশিন ক্রয় করা সম্ভব ছিল কিনা সেটা সরকারি তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা নতুন করে তদন্তে নামলে বেরিয়ে আসবে অস্বাভাবিক আয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। (চলবে) …