শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

সবই খোলা, বন্ধ শুধু স্কুল-কলেজ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২২

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ ছয় দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। কিন্তু এই বিধিনিষেধের মধ্যেও বাণিজ্য মেলা, বইমেলা এবং বিপিএল খেলা চলবে। খোলা থাকবে হকার্স মার্কেট, সুপার মার্কেট, ফুটপাতের দোকান, শপিংমল ও গার্মেন্টস। তাই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই বিধিনিষেধ কতটুকু কার্যকর হবে। এদিকে শুধুমাত্র সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ জারি করে সংক্রমণ রোধ করা যাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণ রোধে আগে হটস্পটগুলো চিহ্নিত করতে হবে। কিন্তু সেটা না করেই সরকার শুধুমাত্র কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছে। আর বিধিনিষেধ জারি করলেও হকার্স মার্কেট, সুপার মার্কেট, ফুটপাতের দোকান, শপিংমল ও গার্মেন্টসগুলোকে সুস্পষ্ট করে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন ছয় দফা বিধিনিষেধ সম্বলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বিধি-নিষেধে বলা হয়েছে- ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও একই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যে কোনো সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে একশো জনের বেশি জনসমাগম করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে টিকা সনদ অথবা আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট সাথে রাখতে হবে। সব অফিস, শিল্প কারখানার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। বাসার বাইরে সব জায়গায় বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। নির্দেশনাগুলো প্রতিপালিত হচ্ছে কি না তা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদারক করবে।

এর আগে করোনার হার বাড়তে থাকায় সংক্রমণের রোধে গত ১০ জানুয়ারি ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছিলো সরকার।

এদিকে গত প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বরে স্কুল ও কলেজে ক্লাস শুরু হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা সংক্রমণ হার স্কুলে বেড়ে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক আক্রান্ত হচ্ছে। তারা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। এটা আশঙ্কাজনক। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে তার সম্মতি সাপেক্ষে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল ও কলেজ বন্ধ করা হয়। আর আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। করোনার সংক্রমণের হার কমে গেলে আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। তবে এখন অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম চলমান থাকবে।

তবে এই বিধি-নিষেধের মধ্যেও রাজধানী বাণিজ্য মেলা চলছে। আজ থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। আর আগামী মাসে একুশে বইমেলাও শুরু হবার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্টেডিয়ামে যেহেতু খেলা হয়, সেখানে একশোর বেশি লোক যেতে পারবে না, এমন বলা যায় না। কিন্তু সেখানেও টিকার সনদ অথবা পিসিআর টেস্টের সনদ নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। আর মেলার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বইমেলা কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর সব পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল, রেস্টুরেন্টেও টিকা সনদ বা পিসিআর টেস্ট সনদ নিয়ে যেতে হবে।

২০২০ সালের মার্চে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এই মাসেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ বছরে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও বছরের শেষদিকে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। আবার গত বছর মার্চ ও এপ্রিলের দিকে আবারো শুরু করে এবং শেষদিকেও সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করে।

তবে গত তিন সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে যেখানে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭০ জন। চলতি মাসের ২১ তারিখ সেই সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023