শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

এটিএম কার্ড ক্লোনকারী তুর্কি নাগরিক ঢাকায় গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২

এটিএম কার্ড ক্লোনকারী চক্রের আন্তর্জাতিক সদস্য তুরস্কের এক নাগরিককে ঢাকায় গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে ক্লোনিং কার্ড দিয়ে শতাধিকবার টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাংকটির এন্টি স্কেমিং সফটওয়্যার থাকায় তিনি টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। তার এই অপচেষ্টা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টের পেয়ে পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতারে মাঠে নামে। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সিটিটিসি গুলশান ১ নম্বর থেকে তাকে বাংলাদেশি সহযোগীসহ গ্রেফতার করে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত তুরস্কের ওই নাগরিকের নাম হাকান জানবারকান (৫৫)। এটিএম কার্ড ক্লোনিংয়ের দায়ে তিনি ২০১৯ সালে ভারতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কারারক্ষীদের হেফাজতে ভারতের আসামের জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি পালিয়ে যান। এরপর নেপালে যান। নেপাল থেকে আউটপাস নিয়ে তুরস্কে যান। ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে এটিএম কার্ড ক্লোনিং করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আসাদুজ্জামান জানান, তার বাংলাদেশি সহযোগীর নাম মফিউল ইসলাম। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিভিন্ন মডেলের ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১৫টি ক্লোনিং এটিএম কার্ডসহ মোট ১৭টি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে এই তুরস্কের নাগরিক একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ভারতে ২০১৯ সালে তার বাংলাদেশি সহযোগী শহিদুল ইসলামসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি পালিয়ে এলেও শহিদুল এখনও ভারতের কারাগারে রয়েছেন। শহিদুলের ভাই মফিউল ইসলাম। তারা সবাই মিলে এই এটিএম কার্ড ক্লোনিং করে থাকেন।’

গত ৩১ ডিসেম্বর হাকান জানবারকান বিজনেস ভিসায় ঢাকা আসেন। তার একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি একেকবার একেক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণ করেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকায় আসার পর তুরস্কের এই নাগরিক ২ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ইউএসএ, ইন্ডিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, কানাডা, বলিভিয়া, স্পেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়েসহ প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে স্কেমিংয়ের মাধ্যমে কমপক্ষে একশ’বার টাকা উত্তোলন করেছেন। এসব কার্ড তিনি বিদেশ থেকেই ক্লোন করে নিয়ে আসছেন বলে আমরা ধারণা করছি।’

তিনি জানান, ঢাকায় এসে তিনি পল্টনের ক্যাপিটাল হোটেলে উঠেছিলেন। কার্ড ক্লোনিংয়ের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। ঢাকার অতীতের কোনও ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

এই চক্রের সঙ্গে তুরস্ক, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো, ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক জড়িত বলেও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন হাকান জানবারকান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023