শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক: প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তুরস্ক কাজ করছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, যাতে করে সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন করা যায় সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলবে তুরস্ক এবং তারা সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফরতর তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সয়লু।

শনিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সয়লুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন— বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করা যায় সেজন্য তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানিয়েছেন।

ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, সকাল ৮টায় তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সাথীদের নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। কক্সবাজারে পৌছানোর পর আমরা সেখানকার বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মিলে তাদের স্বাগত জানাই। সেখানে তিনি গার্ড অব অনার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ২২ মার্চ আগুনে পুড়ে যাওয়া তার্কিশ ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে কাজ করা তার্কিশ বিভিন্ন সংগঠন আফাদ, ভাসীর, তার্কিশ রেড ক্রিসেন্টসহ আটটি সংগঠনের কর্মস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাদের প্রশংসা করেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এরপর তুরস্কের অধীনে যে ঘরগুলো করা হয়েছে সেগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। পাশাপাশি একটি সাবান ও সেনিটাইজার ফ্যাক্টরি এবং রোহিঙ্গাদের স্বার্থে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন তিনি।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। তিনি তার সরকার থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং চলমান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন।

এরপর বিকেল চারটায় তাকে নিয়ে আমরা ঢাকা বিমানবন্দরে নামি। সেখানে বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাটিতে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সম্মান জানান। এসময় বঙ্গবন্ধু একজন অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এবং তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিশ্বের কোথাও স্থান দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সোলাইমান সয়লুর।

তুরস্কের চাওয়া বিভিন্ন সু্যোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাক্ষাতে কিছু দাবি জানিয়েছেন সোলাইমান সয়লুর। তিনি (সোলাইমান সয়লুর) বলেছেন— তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে যেসব কর্মকর্তারা আসেন তাদের ট্যুরিস্ট ভিসায় আসতে হয়। কিন্তু ট্যুরিস্ট ভিসার বদলে অন্য কোনো বিশেষ ভিসায় আসতে পারবেন কি-না সেই সুযোগ তিনি চেয়েছেন। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দু’দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চেয়েছেন এবং আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছি। এর ফলে ভবিষ্যতে আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় পরস্পর সহযোগিতা করতে পারবো।

এছাড়া কক্সবাজারের মতো আফাদ সংগঠনটি যাতে ভাসানচরেও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত করতে পারে সে আবেদন জানান এবং আফাদের প্রধানকে তিনি দায়িত্ব দেন। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।

তিনি একটি কথা বারবার বলেছেন, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই। যেখানেই নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ থাকে সেখানেই তাদের সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, তুরস্কে প্রায় ৪০ লাখের বেশি শরণার্থী আছে। এবং সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েও বাংলাদেশে মানবিক সহযোগিতা দেবে।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি বলেছেন বাংলাদেশে তিনি কাজ করছেন, মিয়ানমারকেও তারা চাপ প্রয়োগ করছেন এবং আন্তর্জাতিক যে সম্প্রদায় আছেন তাদের কাছেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কথা বলছি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সচিব মো. মোহসীনে এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান (যুগ্মসচিব) হাসান সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সয়লুর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ইসমাইল ছাতাকলু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার খালিল বল দামির, তুরস্কের দুজন সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023