স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরে নড়েচড়ে বসল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলায় ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে শোকজ় নোটিস ধরানো হলো। আপাতত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই সেন্টারগুলি যথাযথ কাগজ দেখাতে পারেনি। সেই কাগজ দেখাতে পারলে ফের তা খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।
কী নির্দেশ CMOH-এর?
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের একদিন পরে ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নোটিস পাঠালেন নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) অসিতকুমার দেওয়ান। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলায় এসে আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, প্রাইভেট ল্যাব ও ইনভেস্টিগেশন সেন্টারগুলিতে চটজলদি এনকোয়ারি করতে। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করতে বলা হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অফিসারদের দিয়ে সোমবার এই সার্ভে চালিয়েছি। দিনের শেষে দেখেছি প্রায় ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যাদের কোনও বৈধ কাগজ নেই। ওদের ক্লোজ়ার নোটিস দিয়েছি। থানাকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। শোকজ় নোটিসও দেওয়া হয়েছে। কেন এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছিল, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার জবাব দিতে হবে। যতক্ষণ না বৈধ কাগজ দেখাতে পারবে, সেন্টার বন্ধ থাকবে।’
গত কয়েক মাস আগে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলি পরিদর্শন করা হয়েছিল। যেগুলি অবৈধ ভাবে চলছিল, অনেকগুলিই বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার পরেও বেশ কয়েকটি সেন্টার আইন ভেঙে চলছিল।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতার বার্তা
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় কোনও রকম আপস চলবে না, বিজেপি এ রাজ্যে সরকারে আসার পরে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি জেলায় জেলায় ঘুরছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে। হাসপাতালে সারপ্রাইজ় ভিজ়িট করছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীও। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
জেলার পূর্ব মেদিনীপুর স্বাস্থ্য জেলা ও নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার হাসপাতালগুলি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কোথাও স্বাস্থ্য পরিষেবায় খুশি আবার কোথাও পরিস্থিতি দেখে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং রোগীদের সুরক্ষায় অবৈধ বেআইনি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে জ়িরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নন্দীগ্রামের এই পদক্ষেপ জেলার অন্যান্য অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সূত্র : এই সময়