শিরোনাম :

নন্দীগ্রামে পুকুরের পাড় উঁচু করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ, পানিবন্দি ৮ পরিবার

নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

বগুড়ার নন্দীগ্রামে পুকুর খনন ও পাড় উঁচু করে আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কামুল্যা ফকিরপাড়া গ্রামের জনৈক প্রভাবশালীদের দাপটে ৩০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। পানিবন্দি হয়ে বেড়েছে দুর্ভোগ।

 

 

এ ব্যাপারে গত ১০ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হলেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ কারী আকবর আলী উপজেলার কামুল্যা গ্রামের বাসিন্দা। বিবাদীরা কামুল্যা পশ্চিমপাড়ার গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন এবং একই এলাকার মৃত মোজাহার আলীর ছেলে শামসুর রহমান।

 

 

পানিবন্দি ৮ পরিবারের ভুক্তভোগীরা জানান, বিবাদীরা এলাকার প্রভাবশালী। তারা সুবিধাজনক জায়গায় নতুন করে পুরাতন পুকুর সংস্কারের নামে পুকুরের চারপাশের পাড় অস্বাভাবিক উঁচু করেছে। বসতবাড়ির পানি বের হওয়ার পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।​ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ও শামসুর রহমানের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

ভুক্তভোগী আকবর আলী জানান, পুকুরের পাড় উঁচু করার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থমকে গেছে। বাড়ির পানি শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। বাড়ির আশপাশ পানিতে ডুবে থাকায় রান্না পর্যন্ত করতে পারছেন না। অনেকের মুড়ি খেয়ে দিন চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে লিখিত  অভিযোগ করেও তারা হতাশ। সুবিধার না পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

 

​আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই পুকুরের পাড় উঁচু করা হয়েছে। পরিবারগুলো কার্যত গৃহবন্দি সময় কাটাতে হচ্ছে। যাতায়াতের প্রধান রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে। জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবৈধভাবে পাড় উঁচু করা বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আরা জানান, অভিযোগ পেয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিবাদীদের ডেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি। বুড়ইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023