বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কল্যাণনগর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গত দেড় মাসে ৩১টি খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অধিকাংশ খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছু খড় আংশিক উদ্ধার করা গেলেও তা গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে কল্যাণনগর হিন্দুপাড়ার আনন্দ চন্দ্র মহন্ত, রতন চন্দ্র ও অমল চন্দ্রের তিনটি খড়ের পালায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, গত দেড় মাসে একই এলাকায় মোট ৩১টি খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে শ্রী সুবল চন্দ্রের ২টি, নরেশ চন্দ্রের ৩টি, নিখিল চন্দ্রের ২টি, অর্জুন চন্দ্র প্রামাণিকের ২টি, সুনীল চন্দ্রের ২টি, স্বপন চন্দ্রের ১টি, সুমল চন্দ্রের ২টি, বিশু চন্দ্রের ১টি, ভোলা দাসের ২টি, বল্লভ চন্দ্রের ১টি, নিবাস চন্দ্র মহন্তের ১টি, সন্তোষ চন্দ্রের ৩টি, স্বদেব চন্দ্রের ১টি, অখিল চন্দ্রের ১টি, কার্তিক চন্দ্রের ১টি, বিনয় চন্দ্রের ২টি এবং আনন্দ চন্দ্র মহন্তের ১টি খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী অখিল চন্দ্র, কার্তিক চন্দ্র ও বিনয় চন্দ্র জানান, ধারাবাহিকভাবে খড়ের পালায় আগুন দেওয়ায় তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গবাদিপশুর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”