শিরোনাম :

বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে:মির্জা ফখরুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

বিরোধী দলের নেতারা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মতো ভাষা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেভাবে ‘এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেব না’ বা ‘৫ বছর সরকার চালাতে দেব না’ বলতেন, আজ বিরোধী দলের নেতারাও সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সংসদে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আর সংস্কার নাকি সংশোধন-এই শব্দগত বিতর্কসহ যে কোনো বিষয়ে বিরোধীদের রাস্তায় সংঘাতের পথ না বেছে সংসদে এসে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিরোধী দলের সমালোচনা, বিরোধিতা জরুরি, তবে তা সংসদীয় শিষ্টাচারের মধ্যে থাকা উচিত। রাজপথের প্রতিবাদ যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না বলে যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বিএনপিই বারবার রূপান্তর ও সংস্কার এনেছে। জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, রক্তক্ষয় ও জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত এই সরকার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র সংস্কারে নিরলসভাবে কাজ করছে।

বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করছে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, আবাসন ও সুবিধা নিশ্চিত করা, আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিকসহ নাগরিকদের পরিবারের দেখভালে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অজস্র রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেটিকেই দেশের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু করা উচিত। জুলাই শহীদদের সম্মান জানাতে আবেগ নয়, বরং সংসদকে কার্যকর করা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উন্নত করাই প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন, নির্যাতন ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এখন লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া। এই বাংলাদেশে থাকবে বাকস্বাধীনতা, সুশাসন ও মেধার মূল্যায়ন। আয়নাঘর বা গুম-খুন থাকবে না। বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হবে নিরপেক্ষ। শিক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি সর্বস্তরে নিশ্চিত হবে সমান অধিকার। এই রক্তের ঋণ শোধ হবে তখনই, যখন অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অক্ষুণ্ন থাকবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, জুলাই জাতির অহংকার। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন কোন্দল ও সংকটে জুলাইয়ের পক্ষগুলোর মধ্যে একটি অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। এটা যেন নতুন সংকট নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা সামসী আরা জামান বলেন, গণতান্ত্রিক স্বার্থে সমালোচনা করতে হবে। কিন্তু সমালোচনা যাতে কাউকে আঘাতের পর্যায়ে নিয়ে না যায়। নতুন বাংলাদেশে এটা সবার প্রত্যাশা।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023