শিরোনাম :
দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগ সীমান্ত হত্যা ও পুশইন দেশে ফিরলেন ৫২ হাজার ৪৯১ হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের বগুড়ায় ধারাবাহিকভাবে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ​শিবগঞ্জে ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শেরপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শাজাহানপুরে ইন্স্যুরেন্সের টাকা আত্মসাতে শফিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বুড়িগঞ্জের মাদকের আঁতুড়ঘর মাচইল গ্রাম থেকে মাদকসেবী গ্রেফতার শাজাহানপুরে হেরোইনসহ কথিত মাদক কারবারি আটক আপনারা গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো? বগুড়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের ইন্তেকাল

নীলফামারীতে চামড়ার বাজারে ধস, ক্ষুব্ধ বিক্রেতারা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নীলফামারীতে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের বিশাল ফারাক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিক্রেতা, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ উঠেছে, ট্যানারি সিন্ডিকেট, আগাম অর্থায়নের সংকট ও দুর্বল বাজার মনিটরিংয়ের কারণে চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ঈদের দিন ও পরদিন ও তৃতীয় দিন জেলার বিভিন্ন অস্থায়ী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। বড় চামড়ার দাম উঠছে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ১৫ টাকায়!

বিক্রেতারা জানান, লাখ টাকা দিয়ে কোরবানির পশু কিনলেও চামড়ার ন্যায্যমূল্য মিলছে না। জেলার সৈয়দপুরের ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার কোরবানির গরু চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০০ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ঠকছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ২০২৬ সালের দর অনুযায়ী ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে সেই দরের চার ভাগের এক ভাগ দামেও চামড়া বিক্রি হচ্ছে না।

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আগাম অর্থ না পাওয়া, লবণ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণ সংকটের কারণে তারা সরকারি দরে চামড়া কিনতে পারছেন না। ছাগলের চামড়া নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চামড়ার দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এতিমখানা, হাফিজিয়া ও কওমি মাদরাসাগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারি মনিটরিং জোরদার, ট্যানারি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা জরুরি।

এদিকে ঢাকার ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের কাছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে চামড়া ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ফলে পাওনা টাকা না পেয়ে পুঁজি সংকটে পড়েছেন তারা। পুঁজির অভাবে এবারে কোরবানির চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, চামড়া কিনতে না পারায় দামে ধস নেমেছে এবারও।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের কাছে তাদের দেড় কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ফলে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছেন তারা। কোরবানি ঘনিয়ে এলেও তাগিদ দিয়েও পাওনা দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। পাওনা না পেলে তাদের পক্ষে কোরবানির চামড়া কেনা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে গরুর চামড়া আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার এবং ছাগলের চামড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকায় আশঙ্কা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023