গাজীপুরে যৌথ অভিযানে সাংবাদিক তুহিন হত্যায় স্বামী-স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৪

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫

মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:যৌথ অভিযানে গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কেটু মিজান, তাঁর স্ত্রী গোলাপী, স্বাধীন ও আলামিন। শুক্রবার রাতে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রবিউল হাসান। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে কেটু মিজান ও তাঁর স্ত্রী গোলাপীকে ভবানীপুর, উত্তরার তুরাগ থেকে আলামিন ও ভবানীপুর এলাকা থেকে স্বাধীনকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। তবে তাদের রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, হত্যারহস্য উদঘাটন করতে আগামীকাল তাদের আদালতে পাঠানোর পর রিমান্ড আবেদন করা হবে। আশা করি দ্রুত এই মামলার অপর আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনে কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সাংবাদিক তুহিনকে।

এর আগে বুধবার গাজীপুর সদর এলাকায় আনোয়ার হোসেন নামের এক সাংবাদিককে পাথর দিয়ে থেঁতলে ও কিলঘুষি মেরে আহত করা হয়। পৃথক এই দুটি ঘটনায় আলাদা মামলা দায়ের হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায়। জিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এক নারী ও তাঁর চক্রের সদস্যরা বাদশা নামের এক লোককে টার্গেট করেন। এ সময় বাদশা ওই নারীর ফাঁদে না পড়ে তাঁকে একটি থাপ্পড় দেন। এ সময় নারী চক্রের সদস্যরা বাদশার ওপর হামলা করে। ধাওয়া করে তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এ সময় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন সড়ক থেকে সেই ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই চক্রের সদস্যরা তাঁকে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা তুহিনকে দেখে ফেলে ভিডিও মুছে ফেলতে বলে। তুহিন ভিডিও মুছতে অস্বীকার করলে তাঁকে ধাওয়া দেয়। এসময় তুহিন দৌড়ে পালাতে থাকে। সন্ত্রাসীরাও তাঁর পিছু নেয়। একপর্যায়ে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি দোকানের কাছে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তুহিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় নিহতের বড়ভাই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023