মোস্তফা মোঘল
দৈনিক মুক্তজমিনের কারারুদ্ধ স্টাফ ফটো গ্রাফার আব্দুল ওয়াহেদ ফকিরের গ্রেপ্তার,মুক্তির আন্দোলনসহ নানা বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার (৬ মে ) ফেসবুকে লিখেছেন প্রত্যাশা প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক নেতা মোস্তফা মোঘল। মোস্তফা মোঘলের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো :
১৯৯৯ সালে আমি যখন দৈনিক সাতমাথায় কাজ শুরু করি, তারও অনেক আগে থেকে দৈনিক সাতমাথায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করেন ওয়াহেদ ফকির। সেই থেকে তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক। সম্প্রতি এনসিপি নেতাকর্মিদের সাথে অনাকাংখিত ঘটনার পর থেকেই ওয়াহেদ ভাই ফেসবুকে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক সম্পর্কে নানান কথা লিখেছেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করেছেন। এরপর একটি ফেসবুক পোষ্টের রেশ ধরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির দাবীতে বৈষম্যবিরোধী গণমাধ্যম আন্দোলনের ব্যানারে সাংবাদিকদের আন্দোলন চলছে। স্বশরীরে আন্দোলনে থাকার সৌভাগ্য না হলেও ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির দাবী আমারও। আমিও ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তি চাই। বগুড়ার সকল সাংবাদিক তার মুক্তি চায়।
এখন প্রশ্ন হলো- ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির আন্দোলনকে নিয়ে যা হচ্ছে সেটাকে ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির আন্দোলন বলবো নাকি অমুক নেতার পতন চাই আন্দোলন বলবো? গতকাল সাতমাথায় মানববন্ধনে উপস্থিত একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বক্তব্য লাইভে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। বড় ভাইয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া বিভক্ত হয়েছে। তারই নেতৃত্বে পাল্টা সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাংবাদিকদের যেই ক্ষুদ্র অংশকে বিশ্বাস ঘাতক বলেছিলেন, তিনি সেই অংশের অন্যতম নেতা। ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির দাবী জানাতে এসে তিনি ইশারায় ইংগিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে আগুনঝরা বক্তব্য দিলেন। সাংবাদিক নেতাকে হারামজাদা বলে গালি দিলেন। একজন সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিককে এমন ভাষায় গালি দিতে পারেন? শুধুমাত্র অনুমান নির্ভর হয়ে কোন সাংবাদিক নেতাকে দোষারোপ করা কিম্বা গালি দেওয়ার মানে কী?
আরেকজন বড় ভাই, ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির জন্য প্রয়োজনে রক্তনদী বইয়ে দেওয়ার হুংকার দিলেন। এই বড়ভাই সেই বড় ভাই; আমার এবং আব্দুল ওয়াদুদ ভাইয়ের চাকরি ফিরে দেওয়ার দাবীতে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র উদ্যোগে এই সাতমাথায় যেদিন মানববন্ধন হয়, সেইদিন এই বড় ভাই আমাদের জন্য মানববন্ধনে না দাঁড়িয়ে কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়িয়ে সাতমাথার সম্পাদকের কাছে মোবাইল ফোনে তথ্য পাচার করেছিলেন।
আরেকজন বড় ভাইয়ের কথা না বললে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আমরা যাকে ডেকে এনে ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছিলাম সেই বড় ভাই একদিন আগেও ডিসির নিকট ওয়াহেদ ফকিরের বিষয়ে যা বলেছেন এখন তার উল্টো সুরে কথা বলছেন। ওয়াহেদ ফকিরকে রাস্তার সাংবাদিক বলা মানুষটাও যখন রাজপথে আগুন জ¦ালায় তখন অনেক প্রশ্নই জাগে মনে।
এভাবে বলতে গেলে অনেক বড়ভাইয়ের কথাই বলতে হবে। কে কোন উদ্যেশ্যে গলা ফাটাচ্ছেন সেটাও অজানা নয়। সত্যটা প্রকাশের অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প দেখছিনা।
আরেকটা কথা জানিয়ে রাখি। ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তির আন্দোলন শুরুর পর থেকেই আকাশে বাতাসে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে- এবার গণেশ উল্টে যাবে। কেউ ঠেকাতে পারবেনা। সাংবাদিক ইউনিয়নের আগামী দিনের সভাপতি এবং সেক্রেটারিও ঠিক হয়ে গেছে। তাদের নামও প্রচার করছেন আন্দোলনের বীরসেনানীরা!
যদি সত্যিই ওয়াহেদ ফকিরের জন্য আন্দোলন হয়ে থাকে তাহলে সবাইকে নিয়ে আন্দোলন হচ্ছেনা কেন? কেন বাছাই করে সাংবাদিক নেতাদের ডাকা হচ্ছে? আন্দোলনের সাথে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের প্রসংগ আসছে কেন? যদি এই ঘটনার সাথে কোন সাংবাদিক জড়িত থাকে তাহলে তার নাম উচ্চারণ না করে গালি দিচ্ছেন কেন? সত্যিই কেউ জড়িত থাকলে তার নাম ধরেই গালি দিন। আপনাদের সাথে আমিও গালি দিবো।
কিন্তু আপনারা সেটা না করে ওয়াহেদ ফকিরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে নিজেরা ফায়দা লুটার জঘন্য খেলায় মেতে উঠেছেন? আপনারা ছাড়া সবাই বোকা এটা ভেবে থাকলে আপনার চাইতে বোকা আর কেউ নাই। ওয়াহেদ ফকিরের প্রতি ন্যুনতম ভালোবাসা থাকলে নোংরা রাজনীতি ছেড়ে সত্যি সত্যি তার মুক্তির জন্য কাজ করুন।
ওয়াহেদ ফকিরের গ্রেফতারের পিছনে কোন সাংবাদিক জড়িত থাকলে দয়া করে আপনারা তার নাম প্রকাশ করুন। এটা প্রমানিত হলে আমার খুব প্রিয়জন কেউ হলেও তার বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়াতে দ্বিধা করবোনা। কিন্তু শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থে কারো বিরুদ্ধে নোংরামি করলে সেটা মেনে নিতে পারবোনা।
পরিশেষে একটা কথা পরিস্কার বলতে চাই- আমাদের মাঝে বিভেদের দেওয়াল তুলে দিতে অনেকেই বহুদিন ধরে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এই মুহুর্তে তাদের অনেকেই কাতারবদ্ধ হয়ে আবারও ঐক্য বিনষ্টের ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছেন। এই খেলায় আপনারা জিততে পারবেন না। সাংবাদিক ঐক্যের বিরুদ্ধে যারাই থাকবেন তারাই পরাজিত হবেন। কোনভাবেই আমরা ঐক্য বিনষ্ট হতে দিবোনা। আমরা ওয়াহেদ ফকিরের মুক্তি চাই। আমরা সাংবাদিকদের ঐক্যবিরোধী অপশক্তির বিনাশ চাই। (লেখক:মোস্তফা মোঘল,বার্তা সম্পাদক,প্রত্যাশা প্রতিদিন )।