স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া:
বগুড়া-০৪ ( নন্দীগ্রাম-কাহালু )আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোশারফের বিরুদ্ধে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজাপুরে মেসার্স রাহিম-রহিম ব্রিকস্ ইটভাটার জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সূত্র জানায়, শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজাপুরে ইটভাটার জায়গা বায়সাসূত্রে মালিকানা দাবী করে (জান মেটাল ঢাকা) প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কৌশলে দখলের চেষ্টা চালায়। এতে করে আগামী মৌসুমে নতুন করে ইট খোলায় চলতি বছর আগুন দেওয়ার সমস্যার মুখে পড়েছে,ঠিক তেমনি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ারও উপক্রম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে শেরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইটভাটার মালিক মো. ফিরোজ আলী শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। ইটভাটার জায়গা দখলমুক্ত ও আগামী মৌসুমে ইটভাটায় আগুন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন,বিএনপি দলীয় নেতাকর্মিদের কাছে সহযোগিতা ও প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ইটভাটার মালিক মো. ফিরোজ আলী বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় মেসার্স রাহিম-রহিম ব্রিকস্(আরআরবি) নামে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রোপ্রাইটর ফিরোজ আলী ইটভাটাটি প্রায় ৩২ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে তার নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ২৬ বিঘা। অবশিষ্ট জমিগুলো স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ইজারা নেওয়া। বছর ভিত্তিক ইজারা দিয়ে অবশিষ্ট জমিগুলো তিনি টাকা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ই ইটভাটার মধ্যে ভোর রাতে ইটখোলায় সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে সীমানা আঁকা হয়েছে এমন দৃশ্য চোখে পড়ায় স্থানীয়রা আশ্চর্য হয়েছে। ফিরোজ আলীর ইটভাটার পাশেই একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে (জান মেটাল ঢাকা) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। সাংবাদিক সম্মেলনে ইটভাটার প্রোপ্রাইটর ফিরোজ আলী আরো বলেন, ইটভাটা দখলের বিষয়টি নজরে এনে তথ্য সংগ্রহ পুর্বক জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সদস্য মোশারফ হোসেনের সাথে উপজেলা বিএনপি’র স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। বিষয়টি মোশারফ হোসেনের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহা করার চেষ্টা হলেও মানতে নারাজ সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন। বরং সুপরিকল্পিতভাবে উল্টো কৌশল অবলম্বন করে শেরপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ইটভাটার মালিক মো. ফিরোজ আলীর পায়ের সাথে পা বাঁধিয়ে ইট খোলার মধ্যে অন্তত ৫ বিঘা জমি ক্রয় করতে শুরুতে জমি কেনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । শেরপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ইটভাটার মালিক মো. ফিরোজ আলী সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলেন, তার ইটখোলা যদি বন্ধ হয় তাহলে এই ব্যবসার সাথে জড়িত অন্তত শতাধিক মানুষ উপার্জনহীন বেকার হয়ে পড়বে। তাদের পরিবারেও দেখা দিবে আর্থিক অসচ্ছলতা। বিগত ১৭ বছর তিনি আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরোধিতা কারণে চাঁদা দিয়ে তার ব্যবসা চালিয়ে আসতে হয়েছে। ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশ স্বাধীনের পর এখনো তার ব্যবসা নিয়ে নতুন করে হুমকির মুখে পড়ছেন তিনি। ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে তার দলীয় রাজনীতির নেতাদের মধ্য থেকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক যদি এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন তাহলে তার ইট খোলাটি চালু থাকতে পারে।