সবাই ভাবছিল ঘূর্ণিঝড় মোখার অজুহাতে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধের অজুহাতে অনেক ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ৩০ টাকার পণ্যটি বিক্রি করেছেন ৬৫ টাকায়। কিন্তু ভারত থেকে আবারও পেঁয়াজের আইপি ইস্যু (আমদানি অনুমতি) করা হবে এমন তথ্যে ব্যবসায়ীরা আড়তে থাকা পণ্যটির দাম কমিয়ে দিয়েছেন। অতিরিক্ত লোকসানের ভয়ে এখন পাইকারিতে পণ্যটির কেজি ৫২ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা দাম আরও কমার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গত ১১ মে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক বিষয়াবলিবিষয়ক ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হেলেনা কনিগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন পর্যাপ্ত হওয়ায় আমদানি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। যদি পেঁয়াজের দাম বাড়তেই থাকে, তাহলে আমদানি করা হবে। এই একটি বার্তাতেই পাইকারিতে কমতে শুরু করল পেঁয়াজের দাম।
দেশীয় পেঁয়াজ চাষিদের বাঁচাতে সরকার গত ১৫ মার্চ থেকে ভারত থেকে পেঁয়াজের আইপি ইস্যু বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এক শ্রেণির সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পেঁয়াজ কিনে বেশি দামে আড়তে বিক্রি করছিলেন। এর ফলে গত দুই মাসের ব্যবধানে ৩০ টাকার পেঁয়াজ পাইকারিতে সর্বোচ্চ দাম ওঠে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে সেটা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
গতকাল সকালে দেশের বৃহত্তর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, খাতুনগঞ্জে পাবনা, ফরিদপুর, তাহেরপুর ও কুষ্টিয়া থেকে পেঁয়াজ আসছে। এ ছাড়া মিয়ানমার, পাকিস্তান, তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকেও পেঁয়াজ আসছে।
খাতুনগঞ্জে এখন দেশি তাহেরপুরী, বারি-১ (তাহেরপুরী), রবি মৌসুমের বারি-২, খরিফ মৌসুমের বারি-৩, স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরী পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। এসব পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪৬-৫২ টাকা। অথচ একই পেঁয়াজ এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৫৫-৬৫ টাকায়। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এটার দাম ছিল ৬০ টাকা। ১০ টাকা কমেছে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। তবে পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ এখনো আড়তে আসেনি। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরা বাজারে এখনো পণ্যটির দাম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম আমাদের সময়কে বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে দেশের সবগুলো স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদার জোগান দিতে হচ্ছে। আমরা আগেও বলেছি, ভারতীয় পেঁয়াজ মোকামে প্রবেশ করলেই অটোমেটিক পণ্যটির দাম কমে আসবে। সেটাই হচ্ছে। আশা করছি, কোররবানির আগেই পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।
ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছিল। এখন যেই শুনছে ভারত থেকে পণ্যটি আবারও আমদানি হবে, তখন লোকসানের ভয়ে আগেভাগেই পণ্যটির দাম কমাতে শুরু করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা এমন সুযোগ পায় প্রশাসনের নজরদারি না করার কারণে।