জয়পুরহাট পৌর শহরের বারিধারা এলাকায় সাড়ে ৪ বছরের শিশুকন্যা কনিণীকা পাল হিয়াকে গলায় মোবাইলফোনের চার্জারের তার পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন মা মৌমিতা পাল (৩০)। হত্যার পর মৌমিতা থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৌমিতা পাল পৌর শহরের বারিধারা এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা নয়ন কুমার পালের স্ত্রী। তারা ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। নয়ন কুমার পাঁচবিবি শাখার সোনালী ব্যাংকে চাকরি করতেন।
নয়ন কুমার পাল বলেন, প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টায় আমি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে যাই। সর্বশেষ সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাড়িতে ফোন করলে আমার মেয়ে ফোন রিসিভ করে। মেয়ের সাথে কথা বলার পর আমার স্ত্রীকে ফোনটি দিতে বলতে স্ত্রী কথা বলতে চাননি। এ ঘটনার পরে থানা থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয়, আমার স্ত্রী মোবাইলফোনের চার্জারের তার দিয়ে মেয়েকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে থানায় গিয়েছে। আমার স্ত্রী মানসিকভাবে একটু অসুস্থ ছিল। তবে এ রকম কাণ্ড সে ঘটাবে, তা ভাবতে পারিনি।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা মৌমিতা পাল পারিবারিক বিভিন্ন কারণে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। সকালে স্বামী কর্মস্থলে গেলে মোবাইলের চার্জারের তার দিয়ে মেয়ের গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। পরে তিনি নিজেই থানায় এসে হত্যার বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাকে আটক করা হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।